প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আথাপাত্থু অপরাজিত ৮৩ রানের ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছেছেন। আয়েশা জাফরের ৭১ ও শাওয়াল জুলফিকারের ৫৪ রানের জবাবে আথাপাত্থুর এই ইনিংসটি আসে।
চামারি আথাপাত্থুর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ফলে শ্রীলঙ্কা এশিয়ান গেমস নারী ক্রিকেটের ফাইনালে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। ৫০ বলে ৮৩ রান করার সময় তিনি ছয়টি ছক্কা মারেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ১৭৮ রানের লক্ষ্যে দলটি ১৯তম ওভারের আগেই পৌঁছে যায়।
টস জিতে পাকিস্তান ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৭ রান সংগ্রহ করে। আয়েশা জাফরের ৪০ বলে ৭১ রান এবং শাওয়াল জুলফিকারের ৫০ বলে ৫৪ রান তাদের লড়াইয়ের জন্য যথেষ্ট পুঁজি তৈরি করে। জবাবে শ্রীলঙ্কা ১৮.৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান করে।
শ্রীলঙ্কার রান তাড়ায় শুরু থেকেই গতি আনেন ইমেশা দুলানি। প্রথম চার ওভারে তিনি পাঁচটি চার মারেন। ২১ বলে ২৭ রান করে ফিরে গেলেও আথাপাত্থু তখনো ধীরগতিতে ব্যাট করছিলেন। ৯ বলে তাঁর রান ছিল মাত্র ৪। পাওয়ারপ্লে শেষে ১২ বলে ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি, তখনো কোনো বাউন্ডারি মারেননি।
তবে অষ্টম ওভারে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। মোমিনা রিয়াসাতের ওভারে আথাপাত্থু মারেন ৬, ৪, ৬, ৪—মোট ২০ রান। দ্বিতীয় ছক্কাটি ভাগ্যের সহায়তায় আসে, যেখানে ফাতিমা সানা ক্যাচ নিয়েও সীমানার দড়িতে পা দিয়ে ফেলেন। ফলে ১৯ বলে ১৮ রানেই জীবন পান আথাপাত্থু; ক্যাচটি ঠিকভাবে নেওয়া হলে তখনই তাঁর ফিরে যেতে হতো।
এরপর বাঁহাতি ব্যাটার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসেন। নাশরা সান্ধুর দশম ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ১০ ওভারে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন নামিয়ে আনেন ৬০ বলে ৯০ রানে।
ম্যাচ পুরোপুরি একপেশে হয়নি, তবে শ্রীলঙ্কার রান তোলার গতি থামাতে পারেনি পাকিস্তান। অধিনায়কের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে শুরু করেন হাসিনি পেরেরা। তুবা হাসানের ১৩তম ওভারে তিনি দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন।
১৪তম ওভারের শেষ বলে ২৬ বলে ৪২ রান করে হাসিনি ফিরে গেলে তাঁর ও আথাপাত্থুর জুটি থামে ৫৬ বলে ৯৫ রানে। তখন শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ৩৬ বলে ৪৭ রান। কিন্তু আথাপাত্থু ও হার্শিতা মাধবী মাত্র ২৩ বলেই বাকি রান তুলে নেন।
পাকিস্তানের ইনিংসে আয়েশা জাফর ছিলেন প্রধান নায়ক। তিনি চার নম্বরে নেমে মাত্র ৪০ বলে ৭১ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল নয়টি চার ও দুটি ছক্কা। শাওয়াল জুলফিকারেরও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি আসে, তবে ৫৪ রান করতে তিনি খেলেন ৫০ বল।
তৃতীয় উইকেটে জাফর ও জুলফিকারের মধ্যে ৭০ বলে ১১৫ রান যোগ হয়। এই জুটির মাধ্যমেই পাকিস্তানের ইনিংস শক্ত ভিত্তি পায়। তবে জুটিতে বড় শটের বেশিরভাগই আসে জাফরের ব্যাট থেকে। জুলফিকার করেন ৩০ বলে ৩৭ রান।
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ১৭৭ রান তোলে—শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। কিন্তু আথাপাত্থুর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কারণে সেই রেকর্ড গড়া স্কোরও যথেষ্ট হয়নি। ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কা ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন