প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে এক তীব্র আবেগঘন বার্তা প্রদান করেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল। তিনি বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ কেবল নিজের ইচ্ছেমতো যা খুশি তা করা নয়। তরুণসমাজ অনেক সময়ে এই স্বাধীনতার ভুল ব্যাখ্যা ধারণ করতে পারে।
শনিবার (১ আগস্ট) পুনেতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের ইতিহাস ও রাষ্ট্রগঠনে লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের চিন্তাভাবনা ও দূরদর্শিতা থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য দেশের তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
‘লোকমান্য তিলক জাতীয় পুরস্কার ২০২৬’ গ্রহণের সময় দেওয়া বক্তব্যে, যেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাকাঠামো সুসংহত করতে ডোভালের অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ডোভাল আধুনিক ভারতের তরুণদের সঙ্গে অতীতের সংঘাতের তুলনা টেনে এনে বলেন, আজকের প্রজন্ম যে স্বাধীনতা ভোগ করছে, তা লোকমান্য তিলকের সময়ের কঠিন পরিস্থিতির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই সময়ের যন্ত্রণা ও সংগ্রাম আজকের তরুণদের পক্ষে পুরোপুরি কল্পনা করাও কঠিন। তিনি উল্লেখ করেন, লোকমান্য তিলকের জীবন ও চরিত্রের গভীরতা বোঝার জন্য তৎকালীন সময়ের সংকটময় প্রেক্ষাপট, সামাজিক সীমাবদ্ধতা এবং অত্যন্ত শোচনীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে, যা আজকের তরুণ প্রজন্মের পক্ষে বুঝা কিছুটা জটিল। তাই প্রত্যেক ভারতবাসীর, বিশেষ করে যুবসমাজের উচিত তিলকের বাণী, তার দেখা স্বপ্ন ও রাষ্ট্রগঠনে আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে তা নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা।
আজকের তরুণদের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সতর্কবার্তা সজাগ করে দেন ডোভাল। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম মনে করতে পারে ভারত শুরু থেকেই উন্নত ও স্বাধীন ছিল, কিংবা স্বাধীনতার অর্থ কেবল নিজের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো ঘটনার অধিকার। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার সংজ্ঞা মোটেই তা নয়।
ডোভালের দেওয়া এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হল, সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলন। বিশেষ করে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ‘জেন-জি’ বা নতুন প্রজন্মের তরুণদের এক বিশাল গণজমায়েত ও বিক্ষোভ ঘটে। জাতীয় পর্যায়ের নিয়োগ ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়ম, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক ত্রুটি-ত্রানির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা সরব হয়ে এই ক্ষোভের আগুন জ্বালে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের চরম রাজনৈতিক চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছে, যার ফলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগে বাধ্য হন।শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের সময় জাতীয় সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রা করে, যেখানে পুলিশের লাঠিচার্জের মুখোমুখি হয়েও তারা প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রশাসনিক জবাবদিহিতার দাবিতে স্লোগান দেয়।
শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছেন যে, একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার মূল ভিত্তি হলো কাঠামোগত জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রের ভুল ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অধিকার; অন্যদিকে অজিত ডোভালের মতো প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, অনিয়ন্ত্রিত প্রতিবাদের চেয়ে সামাজিক স্থিতিশীলতা, রাষ্ট্রগঠন এবং দেশের কাঠামোর প্রতি আনুগত্য প্রকাশই আগে প্রাধান্য পাওয়া উচিত।
তিলকের অবদানের কথা স্মরণ করে ডোভাল বলেছেন, তিলকের জীবন ভয়, যন্ত্রণা ও কষ্টের মধ্য দিয়ে কেটেছে। এতকিছুর পরও তিনি ভারতের জাতীয় চেতনা পুনর্গঠনে এক অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।
দেশের উদীয়মান তরুণদের রাষ্ট্রগঠনে নিজেদের উৎসর্গ করার আকুল আবেদন জানিয়ে অজিত ডোভাল বলেন, ভারতের ইতিহাসের মধ্যে বর্তমানে এক বিরল ও অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা হাতছাড়া করা যাবে না। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের যুবসমাজকে দেশের জন্য নিজেদের সম্পূর্ণ বিলিয়ে দিতে হবে। সংকীর্ণ ব্যক্তি স্বার্থ বা সাময়িক লাভ-ক্ষতির চিন্তা পাশে সরিয়ে রেখে জাতীয় স্বার্থে কাজ করার সংকল্প নিতে হবে। ক্ষুদ্র স্বার্থ সামনে আসলেও তা উপেক্ষা করতে হবে, কারণ দেশের অগ্রাধিকার আগে; ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া অপেক্ষা করতে পারে। ভারত আজ ইতিহাসের ঐতিহাসিক সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছে, সেই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা একটি নতুন অধ্যায় রচনা করতে সক্ষম হব বলেই আমি বিশ্বাস করি।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন