প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের বন্ধ এবং আংশিক সচল শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদন এবং কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার ‘বন্ধ শিল্প ও সেবাখাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ গঠন করেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি)-১ থেকে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যে বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মন্থর অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এবং প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে বন্ধ ও উৎপাদন সক্ষম শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যেই ২০ হাজার কোটি টাকার এ প্রাক-অর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছে, যা কার্যকর হবে।
স্কিমের আওতায় বৃহৎ শিল্প ও সেবাখাতের সম্পূর্ণ বন্ধ প্রতিষ্ঠান, কিন্তু পুনরায় চালুর সক্ষমতা রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠান এবং আংশিক সচল প্রতিষ্ঠান, যেগুলো পর্যাপ্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন বা সেবা দিতে পারছে না, তারা ঋণ সুবিধা পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংককে ৪ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে অর্থ দেবে। ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে গ্রাহক পর্যায়ে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ বিতরণ করতে পারবে। ঋণ বিতরণের পর প্রথম ছয় মাস থাকবে গ্রেস পিরিয়ড। রফতানিমুখী এবং প্রচ্ছন্ন রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ বা ভাড়া নিয়ে চালু হয়, তবে তারাও অগ্রাধিকার পাবে।
তবে ঋণ দেওয়ার পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা, ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের প্রয়োজনীয়তা, বন্ধ হবার কারণ এবং সম্ভাব্য ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা বিস্তারিতভাবে যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা যাবে। সিআইবিতে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ঋণগ্রহীতা, অর্থপাচার, জালিয়াতি, ফান্ড ডাইভারসন অথবা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবে না।
এছাড়া, স্কিমের অর্থ ব্যবহার করা যাবে শ্রমিক-কর্মচারী বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল, কাঁচামাল সংগ্রহ, রফতানি আদেশ বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য উৎপাদন ব্যয়ের জন্য। তবে বিদ্যমান কোনো ঋণের সমন্বয় কিংবা পরিশোধে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ এ স্কিমের আওতায় এক সময়ে ২০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ সুবিধা নিতে পারবে না। ঋণের মেয়াদ হবে সর্বাধিক এক বছর, যা প্রয়োজন অনুযায়ী নবায়নের সুযোগ থাকবে। তিন বছরের মেয়াদি আবর্তনযোগ্য (রিভলভিং) এ স্কিম পরিচালনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩।
প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে ব্যাংকগুলোকে ঋণ মঞ্জুরিপত্র, হালনাগাদ সিআইবি রিপোর্ট, উৎপাদন সক্ষমতা মূল্যায়ন প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের প্রত্যয়নপত্র (যদি থাকে) এবং গ্রাহকের ঘোষণাপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক যাচাই-বাছাই শেষে প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা দেবে।
তবে কোনো ঋণ স্কিমের জন্য উপযুক্ত বিবেচিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব অর্থায়নে তা পরিচালনা করতে পারবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঋণ আদায় এবং তদারকির সম্পূর্ণ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর থাকবে। গ্রাহক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। একই সাথে ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিক্রয় প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং কারখানা পরিদর্শন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, স্কিমের আওতায় বিতরণ করা ঋণ যে কোনো সময় সরেজমিনে যাচাই করা হতে পারে। ঋণের অপব্যবহার, জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান অথবা খেলাপি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং প্রয়োজনে তথ্য সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হবে। এছাড়া, স্কিমের আওতায় অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ অবদান রাখা ঋণগ্রহীতা ও ব্যাংকগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা দেওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এ বিষয়ে দেশজুড়ে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন