প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জয়পুরহাট সদর উপজেলার জিতারপুর মোড়ের একটি আখক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি নিখোঁজ ইজিবাইকচালক ফরিদ হোসেনের (৪১) বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। কঙ্কালটি ফরিদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন ক্ষেতলাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল করিম।
এদিকে, র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযানে এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সাগর হোসেনকে (২৭) বুধবার বিকেলে নওগাঁর আত্রাই রেলস্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
ফরিদের বাবা আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমার ছেলে ২০ আগস্ট সকালে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি।
আখক্ষেতে কঙ্কাল পাওয়ার খবর শুনে সেখানে গিয়ে পোশাক দেখে আমরা বুঝতে পারি, এটা আমার ছেলে ফরিদের। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে ক্ষেতলাল উপজেলার হোপপীরহাট গ্রামের বাড়ি থেকে ইজিবাইক নিয়ে বের হন ফরিদ। এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন তার বাবা আবদুল কুদ্দুস ক্ষেতলাল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার জয়পুরহাট সদর উপজেলার পাকার মাথা এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে ফরিদের ইজিবাইক উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রবিউল ও জাকির হোসেন নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন ফরিদের বাবা বাদী হয়ে ক্ষেতলাল থানায় মামলা করেন।
মামলায় হোপীরহাট গ্রামের সাগর হোসেনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরো তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা হওয়ার পরদিন গত মঙ্গলবার ভোরে জিতারপুর মোড়ের একটি আখক্ষেত থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করে পুলিশ। ফরিদের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পেরে তার স্বজনেরাও সেখানে যান। কঙ্কালের সঙ্গে থাকা পোশাক দেখে তারা সেটি ফরিদের বলে শনাক্ত করেন। পরে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে কঙ্কালের ময়নাতদন্ত শেষে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই রাতেই পরিবারের সদস্যরা কঙ্কালটি দাফন করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিখোঁজ হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে একটি মরদেহ কঙ্কালে পরিণত হওয়ার কথা নয়। পুলিশের ধারণা, ফরিদকে হত্যার পর দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে মরদেহের অধিকাংশ অংশ নষ্ট করে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ক্ষেতলাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল করিম বলেন, ‘কঙ্কালের সঙ্গে থাকা পোশাক দেখে ফরিদের মা-বাবা সেটি তাঁদের ছেলের বলে শনাক্ত করেছিলেন। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের পর কঙ্কালটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম বলেন, ‘ফরিদ হোসেন নিখোঁজের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সাগর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিভাবে দ্রুত সময় লাশটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে তা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে রহস্য বের করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন