প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিজেপি সাংসদ নগেন্দ্র রায়কে দেওয়া ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অনন্ত মহারাজ, যিনি পরিচিত, সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘যুদ্ধাপরাধী ও দেশদ্রোহী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই কারনে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার তার সম্মাননা ফিরিয়ে নিয়েছে।
গত ১৯ জুলাই কোচবিহারের দিনহাটায় একটি জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় অনন্ত মহারাজ নেতাজির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ গড়ে তোলার মতো কোনো ক্ষমতা কি নেতাজির ছিল?’ তার এই বক্তব্যে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কলকাতা শহরের শ্যামবাজারে নেতাজির মূর্তির পাদদেশে বড় ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। কিন্তু সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে, অনন্ত মহারাজ গত সোমবার শিলিগুড়ির ফুলবাড়ির জাবরাভিটায় একটি অনুষ্ঠানে আরো তীব্র ভাষায় নেতাজিকে আক্রমণ করেন। শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে তিনি নেতাজিকে ‘যুদ্ধাপরাধী এবং দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দেন।
অনন্ত মহারাজ এর দাবী, ভারতের স্বাধীনতায় নেতাজির কোনো অবদান নেই। দুইটির প্রকাশ্য বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দলমত নির্বিশেষে এক আবেগের নাম। বিজেপির সাংসদরাও অনন্ত মহারাজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।
উত্তরবঙ্গের একদল বিজেপি বিধায়ক ও মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে অনন্ত মহারাজের মন্তব্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানান। রাজ্য বিজেপি দ্রুত এই মন্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখে এবং এটিকে অনন্ত মহারাজের ‘ব্যক্তিগত বক্তব্য’ বলে ঘোষণা করে। তবে তীব্র সমালোচনার মুখেও, অনন্ত মহারাজ নিজের বক্তব্যে অনড় থেকে বলেন, তিনি নিজে কোনো মনগড়া কথা বলেননি। বরং সরকারি আর্কাইভ এবং ঐতিহাসিক বইয়ের রেকর্ড অনুসারেই বক্তব্য রেখেছেন।
অনন্ত মহারাজের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার নেতাজিকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, এই আইন সাংসদ, বিধায়ক কিংবা সরকারি কর্মকর্তা; সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন পুলিশকে কড়া আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেন, তখন অনন্ত মহারাজ কটাক্ষের সুরে পাল্টা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী ভালো কথাই বলেছেন। আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।’ তিনি একইসাথে দাবি করেন, সরকার যদি মনে করে এই নথিপত্রগুলো ভুল, তবে ইতিহাস বা আর্কাইভের সেই রেকর্ডগুলো বদলানোর উদ্যোগ সরকারেরই নেওয়া উচিত, কারণ তিনি শুধু নথিতে যা আছে তাই বলেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপি সাংসদের সম্মাননা ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা আসে। সম্মাননা প্রত্যাহারে রাজ্য সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি এমন কিছু তথ্য ও পরিস্থিতি সামনে এসেছে যা নগেন্দ্র রায়ের এই সম্মাননা ধরে রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়েছে যে, নগেন্দ্র রায়ের কাছে বঙ্গবিভূষণ সম্মানটি থাকা এই পুরস্কারের মর্যাদা, গৌরব ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবিলম্বে নগেন্দ্র রায়কে দেওয়া বঙ্গবিভূষণ সম্মাননা প্রত্যাহার ও বাতিল ঘোষণা করছে।’
উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের সাংসদ অনন্ত মহারাজ রাজবংশী সম্প্রদায়ের একজন প্রভাবশালী নেতা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মমতা ব্যানার্জির সরকারের আমলে তাঁকে এই বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন