প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রকৃতির এক অদ্ভুত ও রহস্যময় সৃষ্টি হাতি। আয়তনে সে পৃথিবীর অন্যতম বিশাল ও শক্তিশালী প্রাণী। একটি বন্য হাতি চাইলেই তার চারপাশের পথ আটকে রাখা যেকোনো বাধা মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে। কিন্তু প্রকৃতির এক অদ্ভুত নিয়মে হাতি কখনো তার নিজের পিঠ নিজে দেখতে পায় না। সে জানে না তার দেহের প্রকৃত আকার কিংবা তার নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শক্তির পরিমাপ।
নিজের এই শারীরিক অজ্ঞতা ও সরলতার কারণেই হাতি তার চেয়ে বহুগুণ ক্ষুদ্র এক সৃষ্টিকে নিজের পিঠে চড়ার সুযোগ দেয়। একজন মাহুত বা সাধারণ মানুষ ওই বিশাল প্রাণীর ওপর বসে তাকে পরিচালনা করে। হাতি যদি এক মুহূর্তের জন্য টের পেত তার শক্তি কতটা অসীম, তবে সে কখনোই ছোট মানুষকে নিজের পিঠে স্থান দিত না।
আমাদের মানবসমাজও যেন রূপক অর্থে এই প্রাকৃতিক সত্যেরই এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি। সমাজের কিছু মানুষ সংগ্রামের ময়দানে বীর যোদ্ধার মতো নিজের ভেতরের অসীম ক্ষমতা ও শক্তির কথা পুরোপুরি জানেন, অথচ তা কখনোই প্রকাশ করেন না বা কারও সামনে জাহির করেন না। কিন্তু যখন কোনো ব্যক্তি ভালো কাজের সীমানা পেরিয়ে অন্যায় ও অপকর্মে মেতে ওঠে, তখন সেই সত্য প্রকাশকারী যোদ্ধা নিজের লেখনীর শক্তি দিয়ে অহংকারী কর্তৃত্বের পতন ঘটান।
সাম্প্রতিক সময়ে নানা সামাজিক প্রেক্ষাপট পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সময়ের সমীকরণে কোনো কোনো মানুষ সাময়িক প্রতিপত্তিকে স্থায়ী বলে ভুল করে বসেন। তারা অতীত ইতিহাসের পিছুটান, বিভিন্ন সময় অর্জিত তিলক কিংবা অতীতে সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তৈরি হওয়া তিক্ত দূরত্বের কথা ভুলে গিয়ে হঠাৎ করেই রুদ্ররূপ ধারণ করেন। কিন্তু ক্ষমতার এই ক্ষণস্থায়ী প্রকাশ আসলে একধরনের বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। আসল ভিত্তিহীন শক্তি যখন সত্য ও সময়ের মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন আড়ম্বরের এই ফাঁপা দেয়াল ভেঙে পড়তে সময় লাগে না।
যেভাবে হাতি তার পিঠ দেখতে পায় না, ঠিক তেমনি অশুভ শক্তিতে অন্ধ হয়ে যাওয়া মানুষগুলোও নিজেদের ভেতরের সীমাবদ্ধতা ও ভুল পথগুলো দেখতে পায় না। তারা ভুলে যান যে, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকে ‘কলম সৈনিকেরা’। সাংবাদিক ও সচেতন সমাজ নীরবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে; তারা শক্তির মহড়া দেয় না, কিন্তু যখন কোনো সীমানা অতিক্রম ঘটে, তখন সত্যের লেখনী দিয়েই অন্যায়ের অবসান ঘটে।
হাতি যেদিন তার নিজের শক্তির বিষয়ে সচেতন হয়, সেদিন মাহুতের অন্যায় কর্তৃত্ব যেমন নিমেষেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়; তেমনি সত্য প্রমাণের ওপর ভর করে যখন কলমের শক্তিতে আওয়াজ ওঠে, তখন অন্যায্য ক্ষমতার রাজত্ব ধসে পড়তে বাধ্য হয়।
প্রতিটি মানুষেরই উচিত সময় থাকতে নিজের অবস্থান বোঝা এবং ক্ষমতার মোহে অন্ধ না হওয়া। মনে রাখা প্রয়োজন, নীরবতা কখনো দুর্বলতা নয়; বরং তা একটি সুবর্ণ সুযোগ—নিজের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে সঠিক ও সুপথে ফিরে আসার। তা না হলে হয়তো পতনের ঘণ্টা বাজতে সময় লাগবে না, আর যাকে ক্ষণস্থায়ী ক্ষমতা মনে করা হচ্ছে, তা যেকোনো মুহূর্তে ভূমিকম্পের মতো কিংবা আল্লাহর ইশারায় এক কাঁচের টুকরোর মতো চুরমার হয়ে যেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন