প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফেনীতে পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক গৃহবধূ ও এক যুবকের।
বুধবার (২২ জুলাই) জেলায় সোনাগাজী এবং পরশুরামে দুপুর ও সন্ধ্যার সময় এসব ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে, পরশুরামের মির্জানগর ইউনিয়নের মহেশপুষ্করণী গ্রামে অনুষ্ঠিত একটি বিয়ের স্টেজে লাইটিংয়ের বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ঘটে সাইমন মজুমদার (২০) নামক এক যুবকের।
নিহত সাইমন মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেবনগর এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি ‘সায়মন্ড ইভেন্ট’ নামে একটি ইভেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করতেন যা পরশুরাম বাজারের কলেজ রোডে অবস্থিত। ব্যক্তিগত জীবনে সাইমন বিবাহিত ছিলেন এবং তার এক বছর বয়সের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের অনুষ্ঠানে স্টেজে লাইটিংয়ের সংযোগ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে গিয়ে গুরুতর আহত হন সাইমন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সাইমনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালে স্বজন, বন্ধু এবং স্থানীয়রা ভিড় জমান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তার স্বজনরা আপত্তি জানান। এক পর্যায়ে পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করে।
এ সংক্রান্ত পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, "পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে স্বজন ও স্থানীয়রা এতে আপত্তি জানান।" তিনি আরও জানান, "একসময় বিপুলসংখ্যক মানুষ এসে হাসপাতালের সামনে মরদেহ ময়নাতদন্তে নিতে বাধা দেন। এরপর ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
এদিন সোনাগাজীতে নিহত গৃহবধূর নাম রুমা আক্তার (৩৫)। তিনি নবাবপুর ইউনিয়নের মহাদিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী।
নিহতের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নিজের বাড়িতে ঘরের কাজ করতে গিয়ে রুমা আক্তার অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তার স্বজনরা দ্রুত তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোমিনুল হক বলেন, "হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।" পরে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের স্বজন কোহিনূর বলেন, "আকস্মিক দুর্ঘটনায় সব এলোমেলো হয়ে গেছে। এমন মৃত্যু কখনো কাম্য নয়।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন