প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাদকের বিস্তার, চুরি-ছিনতাই, চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মেঘনা নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও ভৈরব থানা পুলিশের কার্যকর ভূমিকা না থাকার অভিযোগে মানববন্ধন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
৩০ অক্টোবর, শুক্রবার বিকেল ৪টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরবের দুর্জয় মোড়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে ভৈরব উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিসান কবির, সদস্যসচিব আশরাফুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল, দপ্তর সম্পাদক আবির হোসেন, জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক রোহানুর রহমান আলভি এবং যুবশক্তির সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভৈরবের মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ রয়েছে। বৈধভাবে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হলেও নির্ধারিত নিয়মের বাইরে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলো ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। নদী ও জনবসতি রক্ষায় বালু উত্তোলনের বিষয়টি জনসমক্ষে পরিষ্কার করা এবং প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, কিছুদিন আগে মেঘনা নদীতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাস্ট্র সংস্কার ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী এন.কে সোহেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার সময় এন.কে. সোহেল সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তাঁরা।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, ভৈরবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ নেই। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন তাঁরা। মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান বক্তারা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, ভৈরবে চুরি, ছিনতাই ও মাদকের বিস্তার আগের তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ভৈরব থানার ভবনের পেছনেই প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চললেও পুলিশের কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।
বক্তারা ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তাঁরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকার অভিযোগও তোলেন তাঁরা।
বক্তারা বলেন, ভৈরবের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। কিন্তু একের পর এক সমস্যা সামনে এলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। মাদক নির্মূল, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, নদী রক্ষা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং হয়রানিমূলক মামলা তদন্তসহ উত্থাপিত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করতে হবে।
তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন