প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মঙ্গলবার থেকে চীন জাপান থেকে আমদানি করা চিপ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিকের ওপর ‘জামানত’ বা অতিরিক্ত ফি আরোপ শুরু করেছে।
বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে প্রমাণ মিলেছে যে জাপানি কোম্পানিগুলো কম দামে পণ্য বিক্রি করেছে, যা চীনের স্থানীয় শিল্পের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে।
এ বিষয়ে খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, জানুয়ারিতে জাপান থেকে আমদানি করা ডাইক্লোরোসিলেন নামক রাসায়নিকের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং বা কম দামে পণ্য বিক্রির তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত এই রাসায়নিকের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক সরবরাহকারী হচ্ছে জাপান।
এশিয়ার দুই অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছিলেন, তাইওয়ানে হামলা হলে টোকিও তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে।
সোমবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ‘প্রাথমিক প্রমাণে দেখা গেছে, জাপান থেকে আমদানি করা পণ্যগুলো ডাম্পিংয়ের বা কম দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িত এবং এতে চীনের ডাইক্লোরোসিলেন শিল্প উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।’
এই প্রেক্ষাপটে, মঙ্গলবার থেকে ‘নিরাপত্তা জামানত’ হিসেবে সাময়িক অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাপানি কোম্পানিগুলোকে চীনের শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত হারে এই অতিরিক্ত জামানত দিতে হবে।
বেশিরভাগ জাপানি কোম্পানির জন্য জামানতের হার ৯৯ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে টোকিওভিত্তিক ডেনাল সিলেনের জন্য হার ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাপানি রাসায়নিক কোম্পানি শিন-এৎসু কেমিক্যালের এক মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি নতুন এই পদক্ষেপ পর্যালোচনা করছে।
তিনি পণ্যটির রপ্তানি থেকে আর্থিক আয়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের ব্যবসার খুবই ছোট একটি অংশ এবং সামগ্রিক ব্যবসায় এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।’
জাপান সরকারের মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, চীনের এই বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে টোকিও ‘যথাযথভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাপান এরই মধ্যে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।’
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়নি যে আমদানিকৃত রাসায়নিকের ওপর কতদিন পর্যন্ত আমানত প্রযোজ্য থাকবে, বা কখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন