প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধান ২৫ বছর বয়সি এক নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেছেন। পরে ওই নারীর গর্ভবতী হয়ে পড়লে তিনি তার ভ্রূণ নষ্ট করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে শিবির নেতা জিসান আত্মগোপনে চলে যান।
আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় এসব তথ্য জানান কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের সুপার বলেন, নিখোঁজ ডায়েরির পর পুলিশ তাকে উদ্ধারের জন্য মাঠে নামে। অনুসন্ধান চলাকালীন প্রথমে জিসানের চাচাতো ভাই সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সজীবের মাধ্যমে পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পেতে শুরু করে।
শনিবার (১৩ জুন) ভুক্তভোগী নারী দাউদকান্দি থানায় একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়। মামলায় ওই নারী অভিযোগ করেন, শিবির নেতা জিসান ৫-৬ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয় ২৫ বছর বয়সি এক নারীর সঙ্গে। পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে কথাবার্তা হতে শুরু করে। পরে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর জিসান তার দাউদকান্দি ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। সবশেষ গত ২০ মে নারীকে ধর্ষণ করা হয়। এর ফলে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে যান। পরে বিভিন্ন সময় জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকে।
এরপর দাউদকান্দির সেকান্দর আলীর ফার্মেসি থেকে সিজানওষুধ এনে নারীকে খাওয়ান। অন্তত ২-৩ দিন পর নারী সুস্থ না হওয়ায় প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের পর আমি ভুক্তভোগী নারী জিসানের চাচাতো ভাই সজীবকে বিষয়টি জানালে সজীবের মাধ্যমে পুনরায় জিসান ওষুধ পাঠান। ইতোমধ্যেই ভিকটিমের রক্তক্ষরণ বন্ধ হলে ভিকটিম জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। গত শুক্রবার (১২ জুন) দুজনের বিয়ের কথা ছিল। তবে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত আটটার পর বিয়ের আয়োজন না করার তালবাহনায় জিসান আত্মগোপন করেন এবং চাচাতো ভাই রাসেলের মাধ্যমে দাউদকান্দি থানায় জিডি করেন।
পরবর্তীতে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে লাকসাম থেকে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের মাধ্যমে আত্মগোপনে থাকা জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী নারীর মামলা অনুযায়ী জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে তুলতে দেরি হচ্ছে। চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেলে তাকে আদালতে তোলা হবে।
পুলিশ সুপার দাবি করেন, ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধান পুরোপুরি সুস্থ আছেন। চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেলে তাকে আদালতে নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার জানান, মূলত ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার রহস্য এবং বিস্তারিত আরও জানানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন