প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এক জায়গায় আবেদন করে নকশা অনুমোদন পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
একই সঙ্গে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অযথা মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের কথা জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা উপস্থিত ছিলেন, এবং অন্যান্য কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, এতদিন রাজউকের নকশা অনুমোদনের জন্য ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে যেতে হতো। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা মন্ত্রী ও রাজউকের চেয়ারম্যানের সম্মতি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে এক জায়গায় আবেদন করার মাধ্যমে দ্রুত নকশা অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে।
উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে শেখ মজিবুর রহমান বলেন, জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটি বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করে সেগুলোর যৌক্তিকতা যাচাই করবে। যদি কোনো ধরনের অনিয়ম, অস্বচ্ছতা বা দুর্নীতি পাওয়া যায়, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অযথা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।
আবাসন সংকট ও স্বল্পমূল্যের ফ্ল্যাটের বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান নগর বিধিমালার কিছু জটিলতার কারণে আবাসন খাতের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) নিয়ে জটিলতার কারণে অনেক ভূমি উন্নয়নকারী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। বিষয়টি বিশেষজ্ঞরা পর্যালোচনা করছেন।
শেখ মজিবুর রহমান জানান, ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বিধিমালা ও নগর গৃহায়ণ বিধিমালা—দুটি বিধিমালাকে আইনি রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এগুলো সংশোধিত হলে আবাসন প্রকল্পে ফ্ল্যাটের সংখ্যা বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষের তুলনামূলক কম দামে ফ্ল্যাট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। শেখ মজিবুর রহমান বলেন, নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করেও যারা নকশা অনুমোদন নেননি, তাদের নির্দিষ্ট জরিমানা বা শাস্তির আওতায় এনে রাজউকের বিধি অনুযায়ী বৈধ করার বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন