প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীন বাংলাদেশকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে। তবে, এই সুবিধা পাওয়ার পরও দেশটিতে পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি পায়নি। দুই দেশের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্যের মধ্যে ১৯ বিলিয়ন ডলারই চীনের অনুকূলে রয়েছে; বাংলাদেশে বাণিজ্যের পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারেরও কম রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এই বৈষম্য কমানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্রগুলো জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি এবং প্রযুক্তি সহযোগিতাসহ ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হতে পারে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাণিজ্যঘাটতি কমানো, এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চীনা অর্থায়ন। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি এত গুরুত্ব পাচ্ছে যে, বাংলাদেশের অবকাঠামো প্রকল্পে সহজ শর্তে অর্থায়নের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করা হতে পারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) গুরুত্বও রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে চীন বাংলাদেশকে শতভাগ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে। এলডিসি উত্তরণের পরে এই সুবিধা আর পাওয়া যাবে না।
এটি কারণেই মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দুই দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এফটিএ চুক্তির জন্য দুই দেশের মধ্যে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এই সমীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক চুক্তির স্বাক্ষরের জন্য 'ভৌত বা প্রত্যক্ষ আলোচনা' শুরুর অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষিপণ্য রপ্তানিতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হতে পারে: চীনে কৃষিপণ্য, বিশেষ করে আম এবং কাঁঠাল রপ্তানির জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস সম্প্রতি বাংলাদেশী তাজা আম আমদানির ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ স্বাস্থ্য বিষয়ক) প্রয়োজনীয়তা অনুমোদন দিয়েছে। এ সফরে এ-সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় প্রোটোকল চূড়ান্ত ও কার্যকর হতে পারে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য এ সফরের বড় অর্জন হতে পারে চীনের বিশাল বাজারে আম ও কাঁঠাল রপ্তানির প্রটোকল স্বাক্ষর।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে: প্রধানমন্ত্রীর সফরে পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি সেবা খাতে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে বাণিজ্যঘাটতি কমানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সম্প্রতি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি ইকোনমিক জোনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মোংলায় নতুন আরেকটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে। ডিজিটাল অর্থনীতি এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ জোরদার করার জন্য একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। দুই দেশের মুদ্রা বিনিময় সহজ করতে বাংলাদেশে চীনের ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবসহ ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ এবং চীনের ‘ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর মধ্যে ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। এ ছাড়া অবকাঠামো খাতে সহায়তা হিসেবে মোংলা পোর্টের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য চূড়ান্ত হয়েছে। চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতুর সংস্কার এবং নবম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতুর নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে লেটার অব এক্সচেঞ্জ বিনিময় হতে পারে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। বাংলাদেশ চীনের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এউও)-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে পারে। এর সঙ্গে ব্রিকস ও আরসিইপি জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে চীনের সমর্থন চাওয়া হবে।
বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চীন আমাদের শতভাগ শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে যে সুযোগটি দিয়েছে তা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। এখন এই সুযোগ কাজে লাগানোর সময় এসেছে। আমরা ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে চীনে পরিচিত হতে চাই।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বিসিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চীনের বিভিন্ন শহরে ৩০টি আউটলেট স্থাপন, যেখানে বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হবে; টেকনোলজি ট্রান্সফার: চীনা প্রযুক্তি বিষয়ে বাংলাদেশিদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ২০টি পলিটেকনিক স্কুল স্থাপন; এবং বাংলাদেশে একটি ব্যাংক স্থাপনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মাধ্যমে দুই দেশের মুদ্রা বিনিময়ের পাশাপাশি বাণিজ্যিক এলসি করার সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন