প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়ার ড্রোন হামলার ফলে ইউক্রেনজুড়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৮০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কেন্দ্রস্থলসহ বিভিন্ন শহরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি ছিল রাশিয়ার অন্যতম ধারাবাহিক ও তীব্র আক্রমণ।
কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনে রাশিয়ার ড্রোন আঘাত হানে। এতে দুজন নিহত হয় এবং ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন চাপা পড়েছেন, যাদের উদ্ধার করতে জরুরি পরিষেবা কাজ করছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, কিয়েভের একাধিক হামলায় ২৪ জন আহত হয়েছেন। বিজ্ঞান একাডেমি ছাড়াও কিয়েভের একটি ওষুধ কোম্পানি, পেট্রল স্টেশন ও চিকিৎসা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া এবার আগের চেয়ে দ্রুতগামী ও উঁচুতে উড়তে সক্ষম জেট-চালিত ড্রোন ব্যবহার করছে। ইউক্রেনের ওপর ছোড়া ১২০টি ড্রোনের মধ্যে ৯০টি ছিল জেট-চালিত। এসব ড্রোন প্রতিহত করা ইউক্রেনের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে এর ৫৭% প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। ইউক্রেন বর্তমানে এই নতুন ড্রোন মোকাবেলার প্রযুক্তি উন্নত করার কাজ করছে।
কিয়েভের পাশাপাশি দনিপ্রো শহরের একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে হামলায় তিনজন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। সিনেলনিকোভের একটি লজিস্টিকস অফিসে ড্রোনের আঘাতে একজন নিহত হন। জাপোরিঝিয়াতে পরিকাঠামোতে হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা কর্মদিবসে সাধারণ বেসামরিক ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মিত্রদেশগুলোর কাছে আরো উন্নত বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
অন্য এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দাবি করেন, রাশিয়া তার সামরিক বাহিনীর জন্য নতুন করে সৈন্য নিয়োগ বাড়াচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ৮,০০০ উত্তর কোরীয় সৈন্য রয়েছে এবং আরো ১০,০০০ সৈন্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন করে সৈন্য সংগ্রহের এসব দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এদিকে, ইউক্রেন জানিয়েছে যে, তারা রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের তেল স্থাপনা ও দুটি প্রতিরক্ষা কারখানায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন