প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সমুদ্রের তলদেশে অদ্ভুত ও বিষ্ময়কর প্রাণীর অভাব দেখা যায় না। তবে সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের দ্বারা আবিষ্কৃত নতুন দুটি প্রজাতির সামুদ্রিক মাকড়সার (Sea Spider) শারীরিক গঠন দেখে অনেকেই বিস্মিত হচ্ছেন। এক প্রজাতির রয়েছে রক্তবর্ণ লাল চোখ, লোমে ঢাকা পা এবং তিন ঠোঁটের বিশেষ মুখাবয়ব। অন্য প্রজাতিটির শরীরে বাস করে একাধিক ক্ষুদ্র পরজীবী।
বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী Organisms Diversity & Evolution-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া (UBC)-এর গবেষক ও ডিন প্রাক-স্নাতক বিজ্ঞানী করম্যাক টলার-স্কটের নেতৃত্বে কানাডার ‘স্যালিশ সি’ (Salish Sea) অঞ্চলে ১৮ মিটার পানির নিচে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় এই প্রজাতি দুটি শনাক্ত করা হয়। বিগত প্রায় ১০০ বছরের মধ্যে ওই অঞ্চলে সামুদ্রিক মাকড়সার নতুন প্রজাতি আবিষ্কারের ঘটনা এটি প্রথম।
অদ্ভুত দুই প্রজাতির বৈশিষ্ট্য
গবেষকদের আবিষ্কৃত দুটি প্রজাতির মধ্যে শারীরিক গঠন ও জীবনযাত্রায় বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গেছে:
ক্যালিপ্যালিন পিলোসিপেডেস (Callipallene pilosuspedes): লাতিন শব্দ ‘পিলোসাস’ (লোমশ) এবং ‘পেডেস’ (পা) থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে। এই মাকড়সাটির নিচের পায়ে লম্বা ও বাঁকানো কাঁটার মতো লোম রয়েছে। লাল চোখের এই প্রাণীটির ত্রিভুজাকার মুখে তিনটি ঠোঁট ও শিকার ধরার জন্য ধারালো দাঁত/আংটা রয়েছে। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে দেখা গেছে, এটি বিশেষভাবে পাগুলো ঘুরিয়ে চিরুনির মতো কাঁটা ব্যবহার করে নিজেকে পরিষ্কার বা গ্রুমিং করতে সক্ষম।
ট্যানিসটাইলাম কিশিন (Tanystylum kiixin): স্থানীয় আদিবাসী গ্রামের নামানুসারে নামকরণ করা এই প্রজাতির পায়ের গঠন কিছুটা ছোট ও কম নমনীয়। এটি নিজে নিজেকে পরিষ্কার করতে পারে না। ফলে এর শরীরে প্রচুর ধুলাবালি জমে থাকে এবং গবেষণায় এর শরীরের ওপর আরও ছোট ছোট পরজীবীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীদের উদ্বেগের কারণ
সাধারণ স্থলভাগের মাকড়সার মতো দেখতে হলেও সামুদ্রিক মাকড়সা মূলত একটি প্রাচীন অর্থোপোড প্রজাতি, যা প্রায় ৫০ কোটি বছর আগে থেকে বিদ্যমান। এসব প্রাণীর পা-এর ভেতরেই এদের পরিপাক ও প্রজননতন্ত্র প্রসারিত থাকে।
গবেষক করম্যাক টলার-স্কট জানান, জলবায়ু পরিবর্তন এবং উপকূলীয় নগরায়নের ফলে সাগরের অবমূল্যায়িত সামুদ্রিক প্রাণীরা কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে তা বোঝার জন্য তারা এই জরিপ পরিচালনা করেন। সমুদ্র তলদেশের এই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা না গেলে অনন্য অনেক প্রজাতি মানুষের অজান্তেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন