প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপি করার জন্য বিগত সরকারের সময় বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর যে অবর্ণনীয় নির্যাতন নেমে এসেছিল, তা নিয়ে তারা কথা বলছেন। চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে প্লাস দিয়ে হাতের নখ তোলা, নখের ভেতর সুই ঢোকানো, গভীর জঙ্গলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের পর সাজানো মামলায় রিমান্ডে নেয়া হতো তাদের। এ পরিস্থিতি শ্রীপুরে কারা নির্যাতিত নেতাদের এক অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গাজীপুরের শ্রীপুরের সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারের সভাকক্ষে বিগত সরকারের আমলে কারা নির্যাতিত নেতাদের সংগঠন ‘শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর নির্যাতিত ঐক্য ফোরাম’-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে, জেলজীবনের নির্মম দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। এ সময় সেখানে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। সংগঠনের সভাপতি আরিফুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
অনুষ্ঠানে বিগত সরকারের নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দেন শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারি। তিনি জানায়, ‘বিএনপি করার কারণে এমন কোনো নির্যাতন নেই যা করা হয়নি। চোখ বেঁধে ডিবি অফিসে নিয়ে প্লাস দিয়ে হাতের নখ তোলা হতো, নখের ভেতর ঢোকানো হতো সুই। এমনকি একটি মসজিদের ইমামের কাছে নিয়ে তওবাও পড়ানো হয়। কালো কাপড় বেঁধে গভীর জঙ্গলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। পরে সাজানো ও মিথ্যা ঘটনার মামলা দিয়ে আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ড চাওয়া হতো।’
তিনি আরো জানান, তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হয়ে তিনি কয়েকবার কারাবরণ করেন। তিনি কয়েক ডজন মামলার আসামি হন। তৎকালীন গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনের রোষানলেরও শিকার হন তিনি। তাকে গ্রেফতার করে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতন থেকে বাঁচতে পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা দাবি করা হয় এবং পরে ধাপে ধাপে ধারদেনা করে তাদের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে নিজের কারাজীবনের স্মৃতিচারণ করেন গাজীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম সরকার। দায়িত্ব পালনকালে তিনি ৫১টি মামলার আসামি হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, কয়েক ধাপে ১৮৬ দিন জেলে খেটেছেন। তিনি তার কন্যা সন্তানের জন্মের খবর কারাগার থেকেই শুনেছেন এবং সন্তানের মুখটাও কারাগারের ভেতর থেকেই প্রথম দেখেছেন। গ্রেফতার হওয়ার পরপরই তাকে টর্চার সেলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম সরকার জানায়, ২০২৩ সালে বিএনপির ডাকা হরতালে শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবরোধ তৈরি করেন তারা। এ ঘটনার জন্য একই বছরের বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) রাতে ময়মনসিংহের ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি থেকে র্যাব-১ তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর, চোখে ও মাথায় কালো কাপড় বেঁধে র্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর ভোররাতে একটি কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এ সময় বিএনপি আন্দোলনের পরিকল্পনা জানতে চায় র্যাব সদস্যরা। কোনো তথ্য না পেয়ে আক্রোশের বশবর্তী হয়ে সেখানকার একটি কক্ষে দুদিন তাকে বন্দি করে রাখা হয়। বন্দিশালায় কখনো এক বেলা, কখনো দুবেলা খাবার দেওয়া হতো। প্রায় পাঁচ মাস পর, তিনি উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করে আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, মোসলেম উদ্দিন মৃধা, অ্যাডভোকেট আবু জাফর, অ্যাডভোকেট আহসান কবির, আবুল হোসেন প্রধান, রাজীবুল বেপারী, মামুন আকন, মোক্তারুল করিম মোড়ল শামীম প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন