প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ছয় মাস ধরে চলমান যুদ্ধের তীব্র টানাপোড়েন সত্ত্বেও ইরানের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ স্বাবলম্বী হওয়ার শক্ত বার্তা প্রদান করেছে। দেশটি অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় অর্থনীতি সচল রাখার জন্য বদ্ধপরিকর, তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছে যে, আগামী দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক আর্থিক টানাপোড়েন এবং জীবনযাত্রার কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। ওয়াশিংটনের চাপ প্রয়োগের কৌশলের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্ব এখন আর একক মার্কিন আধিপত্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। তেহরান নিজস্ব কৌশল প্রয়োগের পাশাপাশি পাল্টা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরানের অর্থনীতি মন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দুই বছর মেয়াদী বিশেষ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে জানান, বছরের পর বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কৌশল ইরানের জানা রয়েছে। অপরদিকে, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেমমাতি ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, তাদের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস তেল রফতানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও জরুরি পণ্য আমদানির জন্য রিজার্ভে যথেষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনা মজুত রয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগালের বাইরে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস একটি বড় সংকট সৃষ্টি করেছে। সরকার খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি পরিষেবা রেশনের আওতায় আনলেও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ধস নামেনি বলেই তাঁর দাবি।
অর্থনৈতিক সংকটের চরম ধাক্কা লেগেছে তেহরানের খোলা বাজারে, যেখানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান এ যাবতকালের সর্বনিম্ন ২০.৫ লাখে এসে ঠেকেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ দারিদ্র্যের তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়েছে। এই কঠিন সময়ে দেশের তরুণ প্রজন্মকে ঘরে বসেই দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ি। ইরানের কৃষিমন্ত্রণালয় দেশে খাদ্য চাহিদার ৯০ শতাংশ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তবে গম, চাল ও ভোজ্যতেলের মতো পণ্যে এখনো মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার ওপর তাদের বড় ধরনের নির্ভরতা রয়ে গেছে। তাছাড়া, তীব্র পানি সংকট কৃষি উৎপাদনের এই উদ্যোগকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
খাদ্য ছাড়াও দেশটির স্বাস্থ্য খাতেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরান প্রায় ৯৭ শতাংশ ওষুধ দেশে তৈরির দাবি করলেও অন্তত ১ হাজার পদের ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং সরকার ভোজ্যতেল ও ওষুধের জন্য দেওয়া সস্তা মুদ্রার ভর্তুকি কমাতে থাকায় বাজারে ওষুধের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। অন্যদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর কারণে তেহরানসহ প্রধান শহরগুলোতে শুরু হয়েছে চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং পেট্রোল পাম্পগুলোতে তৈরি হয়েছে কিলোমিটারব্যাপী দীর্ঘ লাইন।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার মতো বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে সরকারকে দ্রুত জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির মতো অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, যা স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে। সার্বিকভাবে, তেহরান আত্মনির্ভরশীলতার ওপর ভর করে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে গেলেও দীর্ঘমেয়াদী এই যুদ্ধ ইরানের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও শক্তিকে ক্রমেই ক্ষয় করে ফেলছে।
সূত্র: আল জাজিরার বিশ্লেষণ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন