প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকার অভিজাত ক্লাব এবং পাঁচতারকা হোটেলগুলোতে সম্প্রতি অভিযান জোরদার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অবৈধ মাদক বিক্রি এবং অনুমোদনহীন কর্মকাণ্ড বন্ধে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে বলা হলেও, এর নেপথ্যে প্রভাবশালী একটি চক্রের চাঁদাবাজি ও চাঁদাদাবির চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
সর্বশেষ গত রাতে গুলশানের তথাকথিত 'জার্মান ক্লাব'-এ একটি অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসি। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি 'সেভেন্টি এইট রেস্ট হাউজ সোসাইটি' নামে নিবন্ধিত হলেও মূলত কোনো বৈধ বার লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। অভিযানে ডিএনসি বিপুল পরিমাণ মদের বোতল জব্দ করে এবং ক্লাবের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করে। আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপ স্বাভাবিক মনে হলেও, এর পেছনের কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর বিতর্ক।
'সমস্যা সমাধানের' নামে মাসোহারা দাবি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বার ও ক্লাব মালিকের অভিযোগ, সম্প্রতি সরকারঘনিষ্ঠ লন্ডন ফেরত এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ইশারায় এই সিরিজ অভিযানগুলো চালানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তি বার মালিকদের ডেকে নিয়ে 'সমস্যা সমাধান' করার নামে মাসিক নির্দিষ্ট অংকের টাকা (মাসোহারা) দাবি করছেন। চাঁদা না দিলে ধারাবাহিকভাবে এমন অভিযান পরিচালনা করে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
একজন ভুক্তভোগী বার মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের বলা হয়েছে নির্দিষ্ট হারে মাসোহারা দিতে হবে, অন্যথায় অভিযান থামবে না। আইনি ব্যবস্থার আড়ালে মূলত এটি একটি নতুন ধরনের র্যাকেট।"
ক্ষমতার অপব্যবহার ও লুটপাটের নতুন প্রতিযোগিতা
শুধু ক্লাব কেন্দ্রিক চাঁদাবাজিই নয়, বর্তমান শাসনব্যবস্থার ভেতরে বদলি বাণিজ্য, জমি ও সম্পদ দখল এবং দ্রুত অর্থ উপার্জনের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। ক্ষমতার পদে থাকা অনেকেই অনৈতিক উপায়ে অর্থ কমানোর মিশনে নেমেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির সবচেয়ে করুণ দিক হলো—যারা অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে রক্ত দিয়েছেন, জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করে মজলুম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন, তারাই আজ ক্ষমতার চেয়ারে বসে 'জালিম'-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
দেশ পুনর্গঠন ও ভাগ্যোন্নয়নের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত ভাগ্য বদলের এই মানসিকতায় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। দেশবাসী আশা করেছিল পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি সুশাসিত সমাজ গঠিত হবে, কিন্তু বাস্তবে তা নতুন রূপের দখলদারিত্ব ও লুণ্ঠনে রূপ নিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন