প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুরের নগরাঞ্চল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে মাদকের বিস্তার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদককারবারিদের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কারণে শ্রীপুর, কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ ও বিক্রি বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে যে, কৌশলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের মাদক গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে দিচ্ছে কারবারিরা। মাদকের সহজলভ্যতা তরুণদের একটি অংশকে নেশায় জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কেউ কেউ চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া, মির্জাপুর, ভাওয়ালগড় ও পিরোজালী; শ্রীপুরের মাওনা, বরমী, কাওরাইদ, রাজাবাড়ী ও প্রহলাদপুর; কাপাসিয়ার তরগাঁও, টোক, সিংহশ্রী, ঘাগটিয়া, রানীগঞ্জ, চাঁদপুর, নওগাঁ, তিলশুনিয়া, বড়সীট, মৈশাদামনা ও কাজাহাজী এবং কালীগঞ্জের আড়িখোলা, নাগরী, তুমুলিয়া, বক্তারপুর, জামালপুর, জাঙ্গালিয়া, আজমতপুর ও নরুনসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মাদককারবারিদের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব এলাকায় মাদক বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
এদিকে, টঙ্গীর হাজীর মাজার এলাকার মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান। তিনি বলেন, "মুম্বাইয়ের বস্তির আদলে গাজীপুরে হাজীর মাজার বস্তি গড়ে উঠেছে। সেখানে মাদক কারবারের বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে।"
তার দাবি, ওই এলাকায় সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পক্ষে অভিযান পরিচালনা করাও কঠিন। সেখানে মাদক কেনাবেচায় বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন ঘটে।
শ্রীপুরের কাওরাইদ ইউনিয়নে মাদক কারবারের বিস্তার নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আফতাব উদ্দিন আতা ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবি অভিযোগ করেন, কাওরাইদ রেলস্টেশনের চা-দোকানি হোসেন আলী হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদককারবারির সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, রেলস্টেশনের চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করেই তিনি মাদক বিক্রি করেন।
ওই দুই নেতার অভিযোগ, হোসেন আলী হোসেনের পাশাপাশি তার সাবেক স্ত্রী রোমেজা, ভাই সাইফুল, ভাতিজা শরীফ ও ভাতিজি খুকিও মাদককারবারের সঙ্গে জড়িত। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
তবে মাদককারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হোসেন আলী হোসেন। তিনি বলেন, "ষড়যন্ত্র করে একবার তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছিল।" তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো ধরনের মাদককারবারের সঙ্গে জড়িত নন। তার সাবেক স্ত্রী রোমেজা আগে মাদককারবারি করলেও বর্তমানে তা করেন না বলে জানান তিনি। তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তার সঙ্গে রোমেজার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান হোসেন আলী। কাওরাইদ রেলস্টেশনের আউট সিগন্যালসংলগ্ন জমিটি তার ভাইয়ের বলেও দাবি করেন তিনি।
একই ইউনিয়নের সিএনজিচালক আসমত আলীর বিরুদ্ধেও মাদককারবারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শাহ শিবলী সাদিক জানান, মাদকবিরোধী ব্লক রেইড অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন মাদককারবারি ও সেবীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত মাসে গাজীপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ৮৬৬ পিস ইয়াবা, ১৩৮ কেজি ২৬০ গ্রাম গাঁজা, ৫ গ্রাম হেরোইন, ২৬২ বোতল বিদেশি মদ, ১২০ লিটার চোলাই মদ ও ৪৪ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন