প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানার বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও হয়রানির। এসব অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানসিক হয়রানি ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার মত অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে তারা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসানের কাছে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। ইউএনও শিক্ষার্থীদের সমস্ত বক্তব্য বোচে শোনেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ইউএনও জানান, শিক্ষকদের বিষয়ক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ইতোমধ্যে রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে এবং সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে দুই দফা বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করেছেন। তদন্তকালে অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বিভিন্ন নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করেছেন। এতে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এখন বিষয়টিকে অধিকতর তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুবেদ সরকারকে আহ্বায়ক, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ আজমল হোসেনকে সদস্য সচিব এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারকে সদস্য করে একটি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ইউএনও জানান। ইউএনওর আশ্বাস পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা উপজেলা পরিষদ চত্বর ছেড়ে চলে যান।
এদিকে, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের কোনও শিক্ষার্থী নেই। যদিও শিক্ষক মিলনায়তনে কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু প্রধান শিক্ষকের কক্ষটি তালাবদ্ধ রয়েছে।
এ সময় প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শিক্ষকদের হাজিরা নেওয়ার জন্য হাজিরা খাতা তাঁর কক্ষে রেখে তিনি কক্ষটি তালাবদ্ধ করেছেন এবং ইউএনওর বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেছেন।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, মানসিক হয়রানি ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছেন। নারীদের পোশাক নিয়ে প্রকাশ্যে কটূক্তি ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবাদ করলেই প্রতিবাদকারী শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ বেতন বন্ধ রাখারও অভিযোগ তাদের রয়েছে।
অথচ এসব অভিযোগের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমান অস্বীকার করেন। তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, “ইউএনওর কাজ ইউএনও করবেন, আর আমি আমার কাজ করব।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান বলেন, শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগ এবং সরেজমিন তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করার পর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন