প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে আবুধাবি।পারস্য উপসাগরে পরপর দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পতনের পর, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) আবুধাবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ থাকবে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে তাদের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি আমিরাতের ভূখণ্ডে আঘাত না করে পারস্য উপসাগরে গিয়ে পড়ে।
দেশটির প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সমুদ্রপথে চলাচলকারী কোনো লক্ষ্যবস্তু উদ্দেশ্য করে ছোড়া হতে পারে। কিন্তু, সেগুলো আমিরাতের কোনো জাহাজ বা দেশটির জলসীমাকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। এর মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরির প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই নৌপথ ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইরান। এমন তথ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত দুই সপ্তাহে আবুধাবির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি এডিএনওসির চারটি ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আবুধাবির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি এডিএনওসি-র অন্তত ২০টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একজন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। এসব হামলার ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি কুয়েত ও বাহরাইনের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের মোট আমদানির ৩০ শতাংশের বেশি আসত আমিরাত থেকে। এর মূল্য ছিল প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, ইরানের প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হতো সংযুক্ত আরব আমিরাতে। যা দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ১৩ শতাংশ।
সেজন্য, বাণিজ্য বন্ধের এই সিদ্ধান্ত ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। কিন্তু, এর প্রভাব আমিরাতের অর্থনীতিতেও পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষক ফারজানেগান বলেন, আঞ্চলিক ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত স্থিতিশীল পরিবেশের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। একই সঙ্গে দেশটি পর্যটক ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায়। তাই ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে আমিরাতের অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।
বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ালো সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে, তেহরানের সঙ্গে এই উত্তেজনায় আমিরাতের নিজস্ব অর্থনীতিও ঝুঁকিতে পড়বে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন