প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, কৃষি পণ্য রপ্তানির সকল প্রক্রিয়া এক জায়গা থেকে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আগামীকাল রাজধানীর গাবতলীস্থ ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট (ভিএইচটি) সেন্টারে কোয়ারেন্টাইন অফিস চালু হচ্ছে। ফলে রপ্তানিকারকেরা পণ্য শোধনাগার, প্যাকিং এবং কোয়ারেন্টাইন একই স্থানে সম্পন্ন করে সরাসরি বিমানবন্দরে পাঠানোর সুবিধা পাবেন।
আজ সোমবার, রাজধানী গাবতলীতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) স্থাপিত ভিএইচটি সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, রপ্তানির প্রক্রিয়ায় ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকে এখানে পণ্য আসবে, ওয়াশ হবে, প্যাকিং হবে এবং কোয়ারেন্টাইন শেষে সরাসরি রপ্তানির জন্য পাঠিয়ে দেওয়া যাবে। রপ্তানিকৃত ফল বিমানবন্দরে সংরক্ষণ করার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণাগার (টেম্পারেচার কন্ট্রোলড স্টোরেজ) স্থাপন করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এটি আমসহ দ্রুত নষ্ট হওয়া কৃষিপণ্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখার সুযোগ দেবে।
মন্ত্রী আরও জানান, চীন বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল আমদানিতে আগ্রহী এবং পরীক্ষামূলকভাবে কিছু কাঁঠাল নিয়েছে। এছাড়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে আম আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য বিশ্বমানের প্যাকিং ও কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে বছরে ২৬ লাখ টন আম উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদন বাড়লেও অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। তাই, এখন রপ্তানি বাড়ানোই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিমানভাড়া প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, রপ্তানির খরচ কমানোর জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া, অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের সঙ্গেও কার্গো সুবিধা বাড়ানো এবং আগাম কার্গো স্পেস সংরক্ষণের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু আম নয়, লিচু, কাঁঠাল, বরই, টমেটো, পেঁপে, মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য এই ভিএইচটি সেন্টারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রপ্তানি সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানান, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সারা দেশে কয়েক হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এটি কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সারা বছর ভোক্তাদের স্থিতিশীল দামে কৃষিপণ্য সরবরাহের সুযোগ দেবে।
মন্ত্রী রপ্তানিকারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি শতভাগ রক্ষা করা উচিত। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা অর্জনই বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি।
বক্তব্যের শেষে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষিপণ্য রপ্তানির সব ধরনের সহায়তা দেবে এবং গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে ইতিবাচক প্রচারের মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।
এর আগে, মন্ত্রী ভিএইচটি সেন্টার উদ্বোধন করেন। কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন