প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ করাতিটোলা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে চালানো অভিযানে চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশ। এই ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. সজীব (২৮), মো. হিমু (৩২), মো. তুষার (২৫), মো. জয় (২৫), মো. টুটুল (৩৩) ও মো. ইমরান (৩৪)।
পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম থেকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে অবৈধ মাদক ঢাকায় আনা হচ্ছে—এমন একটি তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ মাতুয়াইল ইউটার্নসংলগ্ন মুক্তি পেট্রল পাম্পের সামনে একটি চেকপোস্ট বসায়। পরে ঢাকা মেট্রো-গ-৩১-৩৬৪৬ নম্বরের একটি সাদা ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। গাড়িতে থাকা পাঁচজনকে আটক করা হলেও তাঁদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মাদক উদ্ধার করা হয়নি।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তিরা গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ করাতিটোলা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে মাদক থাকার কথা জানান। পরবর্তীতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। সজীব ও হিমুর দেওয়া তথ্য অনুসারে ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের খাটের নিচে থাকা প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি।
অভিযানে আরও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ছয়টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া সজীবকে পরিচিত করা হয়েছে ওয়ারী বিভাগের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্র-মাদকের কারবারে জড়িত সজল ওরফে অটো সজলের ছোট ভাই হিসেবে।
পুলিশের ভাষ্য মতে, গত ২ মার্চ অবৈধ মাদক উদ্ধারের অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের এক পর্যায়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ৩২ বোর রিভলবার, একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল ও ২৩ রাউন্ড গুলি।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জানা যায়, ওই ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র সজল ওরফে অটো সজল সরবরাহ করেছিলেন।
এরপর গত ১৮ জুন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে সজলকে আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগে তাঁর ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে উদ্ধার করা হয়েছিল দুটি টরাস ব্র্যান্ডের পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ৭৭ রাউন্ড গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন, হেরোইন তৈরির উপকরণ, মাদক বিক্রির ২২ হাজার ৯৬০ টাকা ও চারটি ফোন।
ওই ঘটনায় গেন্ডারিয়া থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আজকের অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে আগের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অবস্থায় রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন