প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি স্কুল এবং কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিনের ছুটি পাচ্ছেন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং শ্যামাপূজা উপলক্ষে নির্ধারিত ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় এই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এই ছুটির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন না।
ছুটির সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ নভেম্বর (শুক্রবার) থেকে ৮ নভেম্বর (রবিবার) পর্যন্ত স্কুল ও কলেজগুলো বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ছুটি থাকবে।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রকাশিত ছুটির তালিকা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা ২১ অক্টোবর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটি নির্ধারিত ছিল।
তালিকা অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর (শনিবার) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং ৮ নভেম্বর (রবিবার) হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা উদযাপিত হবে। ৬ নভেম্বরের শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় স্কুল ও কলেজের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিনের অবকাশ পাচ্ছেন।
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে শ্যামাপূজা পালিত হবে।
সরকারি ও এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের ছুটির তালিকায় এ উপলক্ষে ছুটি রাখা হয়েছে। ফলে সারা দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও একই ছুটির আওতায় থাকবে।
যদিও স্কুল ও কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিনের ছুটি পাচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত নিজেদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির উল্লেখ নেই।
অন্যদিকে, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত ছুটির তালিকাতেও শ্যামাপূজা উপলক্ষে কোনো ছুটি রাখা হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট তালিকা অনুযায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এই ছুটি পাচ্ছেন না।
শ্যামাপূজা কী
শ্যামাপূজা বা কালীপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এই পূজা দেবী কালীর উদ্দেশে নিবেদিত। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, কার্তিক মাসের দীপান্বিতা অমাবস্যা তিথিতে সাধারণত এই পূজা উদযাপন করা হয়।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মিথিলা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, আসাম ও ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শ্যামাপূজার প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এই উৎসব ব্যাপকভাবে পালিত হয়।
শ্যামাপূজার দিন একই সঙ্গে দীপাবলি উৎসবও উদযাপিত হয়। দীপাবলি দীপান্বিতা, দীপালিকা, সুখরাত্রি, সুখসুপ্তিকা ও যক্ষরাত্রি নামেও পরিচিত। সর্বভারতীয় পর্যায়ে এই দিন লক্ষ্মীপূজা পালিত হলেও বাঙালি, অসমিয়া ও ওড়িয়া সম্প্রদায়ের মানুষ এই তিথিতে দেবী কালীর পূজা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন