প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চা-বাগানের সবুজের ভেতর সকাল থেকে কর্মব্যস্ততা শুরু হয়। শ্রমিকরা কচি চা-পাতা তোলার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কখনো প্রখর রোদ, কখনো মেঘলা আকাশ, সবকিছু উপেক্ষা করেই তাদের দিন পার করতে হয়। তবে শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার নাম হচ্ছে হঠাৎ বৃষ্টি। কাজের মাঝখানে যখন বৃষ্টি নামে, তখন অনেক সময় আশ্রয় নেওয়ার সুযোগও থাকে না। ভিজতে ভিজতেই চালিয়ে যেতে হয় চা-পাতা সংগ্রহের কাজ।
তবে চিত্র বদলানোর স্বপ্ন এখন দেখছেন মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকরা। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া রেইনকোট হাতে পেয়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের চা-বাগানগুলোতে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। শ্রমিকরা বলছেন, রেইনকোটটি তাদের কাছে শুধু বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার উপকরণ নয়, বরং এটি তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও দুর্ভোগের প্রতি রাষ্ট্রের নজর দেওয়ারও একটি প্রতীক।
শ্রমিকরা বলেছেন, রেইনকোট গায়ে দিয়ে বৃষ্টির মধ্যেও কাজ করা তাদের জন্য সহজ হবে। তারা আরও বলছেন, ভিজে ঠাণ্ডা লাগা, কাপড় ভিজে যাওয়াসহ নানা দুর্ভোগও কমবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে টানা বৃষ্টির মধ্যে কাজ করতে গিয়ে যে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তা থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবেন তারা।
শুধু শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ নয়, উদ্যোগটির আওতায় সারা দেশে মোট ২০ হাজার চা শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ করা হবে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ১০ জন চা শ্রমিকের হাতে রেইনকোট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শ্রীমঙ্গলে অসংখ্য চা-বাগান রয়েছে। এসব বরং খোলা মাঠে কাজ করেন ৪০ হাজারেরও বেশি চা শ্রমিক। চা-পাতা তোলার সময় বৃষ্টি শুরু হলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন নারী শ্রমিকরা। তারা মাথায় চা-পাতা তোলার ঝুড়ি, হাতে কাঁচি নিয়ে কাজ করেন, আর এই অবস্থায় বৃষ্টির পানি সামলে কাজ করা তাদের নিত্যদিনের স্বাভাবিক বাস্তবতা।
মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের জীবনযাপন, সমস্যা ও প্রয়োজন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবগত রয়েছেন। তিনি বিশেষ করে চা শ্রমিকদের নানা সমস্যা ও তাদের চাওয়ার বিষয়টি জানেন। রেইনকোট দেওয়ার উদ্যোগ তারই একটি প্রতিফলন।
তিনি জানান, মঙ্গলবার তার নির্বাচনী এলাকা থেকে ১০ জন চা শ্রমিককে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলেন, সমস্যার কথা শোনেন এবং রেইনকোট উপহার দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী, সরকার এবং রেইনকোট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা পরেশ কালিন্দি বলেন, সংসদ সদস্য যেমন নিয়মিত চা শ্রমিকদের খোঁজখবর রাখেন, তেমনি প্রধানমন্ত্রীও চা শ্রমিকদের প্রতি আন্তরিক। দীর্ঘদিন পর তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা মন খুলে বলার মতো একজন মানুষ তারা পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শ্রীমঙ্গল রাজঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কানাই গোয়ালা বলেন, নির্বাচনের আগে মৌলভীবাজারে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের কথা বলেছেন। জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পর শ্রীমঙ্গলে এসে চা শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এবার বৃষ্টিতে ভেজা শ্রমিকদের জন্য রেইনকোট উপহার দিয়েছেন। তার বিশ্বাস, চা শ্রমিকদের প্রতিটি সমস্যা আলাদা করে বলতে হবে না; প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাদের পাশে দাঁড়াবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে রেইনকোট পাওয়া ১০ শ্রমিকের মধ্যে রয়েছেন, শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট চা-বাগানের শান্তি উড়িয়া, মাকড়িছড়া চা-বাগানের মুন্নী কুর্মি, ভাড়াউড়া চা-বাগানের জ্যোৎস্না আক্তার, রাজঘাট চা-বাগানের রিনা তাঁতী ও শশিকা ব্যানার্জি, মাজদিহি চা-বাগানের সন্তুকী রায়; কমলগঞ্জের ফুলবাড়ী চা-বাগানের কবিতা কর্মকার, মাধবপুর চা-বাগানের সুজাতা বিশ্বাস, উত্তর আলীনগর চা-বাগানের রিতা রাণী বাউরী এবং পাত্রখোলা চা-বাগানের আফখাতুন নাহার।
লিন্দি বলেন, আমাদের সংসদ সদস্য যেমন সবসময় আমাদের খোঁজখবর রাখেন, তেমনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চা শ্রমিকদের ভালোবাসেন। এতদিন পর আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা মন খুলে বলার মতো একজন মহৎ মানুষ পেয়েছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।
সবুজ চা-বাগানের সারি, মাথার ওপর মেঘ আর হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টি, এই পরিচিত দৃশ্যের মধ্যেই এবার হয়তো দেখা যাবে নতুন একটি দৃশ্য। শ্রমিকরা বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপতে কাঁপতে নয়, বরং রেইনকোট গায়ে দিয়েই চা-পাতা তুলছেন। তাদের কাছে এই ছোট্ট পরিবর্তনই হয়ে উঠতে পারে বড় একটি স্বস্তির গল্প।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন