প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তামিলনাড়ুর ২১ তীর্থযাত্রী নেপালে তীর্থযাত্রায় গিয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার শিকার হন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে শুক্রবার তারা দেশে ফিরেছেন। তাঁদের কাছে এই ফিরে আসা যেন ‘দ্বিতীয় জন্ম’ হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।
তাঁরা তিনটি বাসের বহরে নেপালে গিয়েছিলেন। আকস্মিক বন্যা হঠাৎ তুষারধসের কারণে সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি মুহূর্তেই পাল্টে যায়। পানির তীব্র স্রোতে ভেসে যায় বহরের দুটি বাস। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে বাসের ছাদ ও আশপাশের উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
শুক্রবার চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বেঁচে ফেরা তীর্থযাত্রীদের চোখেমুখে আতঙ্ক, আবেগ এবং স্বস্তির ছাপ ছিল।
তীর্থযাত্রী বিজয়ভুবনেশ্বরী ভয়াবহ সেই মুহূর্তের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "বন্যার পানি আছড়ে পড়ার সময় বোমা বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ হয়েছিল।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের সামনে ও পেছনের গাড়িগুলো বাসটিকে আটকে দিয়েছিল। নিজেদের বাঁচাতে আমরা সেগুলোর ওপর উঠে পড়ি। পরে একটি পাহাড়ে উঠে যাই, যেখানে সশস্ত্র পুলিশ ক্যাম্প ছিল। পুলিশ আমাদের সাহায্য করে এবং আশ্রয় দেয়।"
বাড়ি ফিরতে পারবেন—এমন আশা করেছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, "৯০ শতাংশই না। আমি শুধু আমার মেয়ের কথা ভেবেছিলাম।"
আরেক তীর্থযাত্রী কিরুবাথিরি জানান, এই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে নতুন জন্মের মতো। তিনি বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর দূরের কোনো বিষয় নয়। এটা আমার জন্য এক নতুন জন্ম। আমার কোনো অভিযোগ নেই। জলবায়ু পরিবর্তন একটি বাস্তবতা। অন্যদের জলবায়ু সংক্রান্ত ভুলের জন্য গরিবদেরই সবসময় চড়া মূল্য দিতে হয়।"
প্রবীণ তীর্থযাত্রী ভল্লিনায়াকির কাছে ঘটনাটি ছিল প্রকৃতির ভয়ংকর শক্তির এক নির্মম প্রকাশ। তিনি বলেন, "এটা ছিল এক অলৌকিক মুক্তি। কংক্রিটের কোনো আগ্নেয়গিরি যেন অগ্ন্যুৎপাত করে আমাদের গ্রাস করছিল।"
এদিকে চেন্নাই বিমানবন্দরেও আবেগঘন পরিবেশ বিরাজমান ছিল। স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় পরিবারগুলোর সদস্যরা অধীর হয়ে ছিলেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর প্রিয়জনকে সামনে পেয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমালয়ের নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ পানির স্রোত নেমে আসে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকা, সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শনিবার এ রিপোর্ট লেখা (বেলা ১১টা) পর্যন্ত ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু নেপালেই ৬১৬ জনের মরদেহ মিলেছে। আর চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মতে, তিব্বতে এখন পর্যন্ত সাতজনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ২ হাজার ৪৮২ জন। তাদের উদ্ধারে অভিযান এখনো চলমান। সূত্র: এনডিটিভি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন