প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। নাম মাহমুদা আক্তার (২৮)। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নে ঘটনাস্থলটিতে মারা যান। নিহতের ভাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যরা পলাতক রয়েছেন, যদিও স্থানীয়রা এ সম্পর্কে জানিয়েছে।
মাহমুদা আক্তার টেংরার ভিটা গ্রামের একজন বাসিন্দা এবং তিনি ময়নাল হোসেনের স্ত্রী। তাদের দুটি শিশু সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে একটি শিশু মাত্র ছয় মাসের। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে রান্নার সময় চুলায় অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে মাহমুদার সঙ্গে তার শাশুড়ির মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এই বাকবিতণ্ডার পর দিনভর পারিবারিক কলহ চলে। মাহমুদার বাবার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় তার মা, আতরভান বেগম, দুই শিশুকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যান। পরে সন্ধ্যাবেলা ছয় মাসের শিশুটি কান্নাকাটি করতে থাকে। তখন তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে আনতে গেলে পরিবারের সদস্যরা মাহমুদাকে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তারপর স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি নিচে নামিয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে বিকেলে বাবার বাড়িতে দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী এবং শাশুড়িসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। নিহতের চাচাতো ভাই আতাউর রহমান অভিযোগ করেন যে, বিয়ের সময় যৌতুকের কিছু টাকা বাকি ছিল। সেই টাকা নিয়ে প্রায়ই মাহমুদাকে নির্যাতন করা হতো। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড এবং আত্মহত্যার আড়ালে রাখা হচ্ছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কিন্তু, নিহতের স্বামী ময়নাল হোসেন, তার মা এবং বড় ভাইসহ শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাননি। তিনি জানান, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, বুধবার রাতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের ভাই আল আমিন একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন