প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগামী এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগ এবং সারা দেশের নিম্ন আদালতগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করার নির্দেশনা এসেছে। সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এ বিষয়ে একটি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে, গত বুধবার আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বার সভাপতির বাগতিণ্ডার জেরে আপিল বিভাগের এজলাস ত্যাগের পর অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বার সভাপতি বলেন, "অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রূহুল কুদ্দুস কাজল আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।"
গত বুধবার বিচারপতির এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইনমন্ত্রী দু’জনের দিক থেকে বক্তব্য এসেছে যে, সেদিন যা হয়েছে, আপনার দিক থেকে আসলে ঠিক হয়নি। তখন ব্যারিস্টার খোকন বলেন, "অ্যাটর্নি জেনারেল! হু ইজ হি হেয়ার? আমি সুপ্রিমকোর্ট বারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে... আপনারা জানেন, এই সুপ্রিম কোর্টে আমাকে আইনজীবীরা ১১ বার নির্বাচিত করেছে। বার কাউন্সিলে সারা বাংলাদেশের ল’ ইয়াররা তিনবার আমাকে নির্বাচিত করেছেন। ২০ বছর ধরে আমি নির্বাচিত। আমি আইনজীবীদের কথা বলব, বিচারপতিদের কথা বলব মাননীয় প্রধান বিচারপতির নিকট। অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনো কাজ আছে এর মধ্যে? উনি এখানে কে?"
তিনি আরও বলেন, "হি ইজ ইররেলেভেন্ট! তার বক্তব্যই ইররেলেভেন্ট! হি ইজ নো বডি ইন আওয়ার ডিসকাশন, ইন আওয়ার ডিমান্ড, অন আওয়ার ডিমান্ড!" তার বক্তব্যটা অনভিপ্রেত। বার সভাপতি বলেন, "আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম। তিনি সাফাই গাইতে গেছেন। উনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সেক্রেটারি ছিলেন না? উনি কে? উনি কীভাবে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন? আই অ্যাম সারপ্রাইজড, শকড অ্যান্ড সারপ্রাইজড!"
সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি আরো বলেন, "সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করেছি। বাইরেও অনেক আইনজীবী যোগাযোগ করেছেন। সবাই একটু উদ্বিগ্ন বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে। মামলা তদবিরে দুর্নীতি। লিস্টে আনতে দুর্নীতি। শুনানিতে দুর্নীতি। কিছু কিছু জুডিশিয়াল অফিসারদের দুর্নীতি। সুপ্রিম কোর্টের সব জায়গাতে দুর্নীতি। হাইকোর্টেও মামলা লিস্টে আনতে হচ্ছে দুর্নীতি। এসব আইনজীবীদের বক্তব্য। আমি মনে করি এটি আমার দায়িত্ব। মাননীয় প্রধান বিচারপতির নিকট দাবি করা। সুপ্রিম কোর্ট আপিল ডিভিশন এবং হাইকোর্ট ডিভিশনের সর্বক্ষেত্র দুর্নীতি মুক্ত করতে হবে। অন্য জায়গায় দুর্নীতি থাকতে পারে। দুর্নীতির বিচার কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে হয়। সুপ্রিম কোর্টে বিচার করার ক্ষেত্রে বিচার প্রার্থীদের তদবির করতে হয়। সব জায়গায় টাকা দিতে হয়, এটিতো দুঃখজনক ব্যাপার। আগেও এই পয়েন্ট আমি রেইজ করেছি। আবার আমি দাবি করছি মাননীয় প্রধান বিচারপতির নিকট, অ্যাপিলেট ডিভিশন এবং হাইকোর্ট ডিভিশনে এবং সারা বাংলাদেশে প্রত্যেকটা কোর্টের মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে আগামী এক মাসের মধ্যে।"
তিনি বলেন, "হাইকোর্টে যেসব হচ্ছে, নিম্ন আদালতে যেসব হচ্ছে সেগুলো দুর্নীতি মুক্ত করতে হবে। যেসব দুর্নীতিবাজ জুডিশিয়াল অফিসাররা এখনো রয়ে গেছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি এই সুপ্রিম কোর্টে গত ১৭ বছরে আওয়ামীলীগের সময় অনেক বিচারপতির আচরণ ছিলো রাজনৈতিক। আজকে আড়াই বছর হয়ে গেছে, এর মধ্যে একজন মাননীয় প্রধান বিচারপতি চলে গেছেন। আরেক প্রধান বিচারপতি এসেছেন। অথচ সেই বিচারপতিরা এখনো সুপ্রিম কোর্টে বহাল তবিয়তে আছেন। তাদের এ আচরণের কারণে আমি মনে করি তাদের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে প্রেরণ করা হোক। এটি আমি দাবি করি তাদেরকে অবিলম্বে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পাঠানো হোক।"
সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি বলেন, "এটি সর্বোচ্চ আদালত। এখানে বস্তি থাকবে কেন? মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে বস্তি অত্যন্ত প্রিয়। আর আইনজীবীরা? তাদের বসার জায়গা নেই। হাঁটার জায়গা নেই। আমাদের কোনো বিল্ডিং নেই। আমি দাবি করবো, আগামী এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বস্তি উচ্ছেদ করতে হবে। আইনজীবীদের বসার পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য আপাতত টেম্পোরারি শেড হলেও তৈরি করতে হবে এবং বস্তি উচ্ছেদ করে হলেও আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।"
"আইনজীবীদের জন্য বিল্ডিং করতে হবে। কিউবিক্যাল করতে হবে। হল রুম করতে হবে। আজ থেকে এক মাস। যদি না করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। আশা করি, মাননীয় প্রধান বিচারপতি আমার এ বক্তব্যটা দৃষ্টিতে আনবেন। যদি না করা হয় তাহলে আইনজীবীরা যদি পরবর্তীতে কোনো পদক্ষেপ নেন, এর দায়-দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি বহন করবে না। আপনারা জানেন এক সপ্তাহ পর সুপ্রিম কোর্ট ভ্যাকেশনে যাবে। ভ্যাকেশনের পর কোর্ট খোলার আগে আপিল বিভাগে কমপক্ষে তিনটি বেঞ্চ করতে হবে। সেই প্রয়োজনে বিচারপতি নিয়োগের উদ্যোগ নিতে হবে। এতে বিচারপ্রার্থীদের আর দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে হবে না।"
"বিচারের জন্য বছরের পর বছর বসে থাকতে হবে না। আর এখন যে বেঞ্চ আছে, তিনি (প্রধান বিচারপতি) চাইলে এখানেও ২টি বেঞ্চ করতে পারেন। আমি আশা করি বিচারপ্রার্থীদের, তথা আইনজীবীরা ক্লায়েন্টদের নিয়ে যে অ্যাংজাইটিতে রয়েছেন যে কখন তাদের মামলার শুনানি হবে-আমরা এগুলো দূরীকরণ করবো আশা করি মাননীয় প্রধান বিচারপতি। উনিতো বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রধান। আমরা ওনার কাছেই দাবি করবো। অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলছি, জুনিয়র আইনজীবীদের যে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে সেটি এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। এ ব্যাপারে আমরা আইনজীবীরা আরো আলোচনা করবো। সার্বিকভাবে পরবর্তীতে কি পদক্ষেপ নেয়া যায়, তখন আবার জানাবো আপনাদেরকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন