প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) দেশে ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয় করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষায়িত ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে, ক্যানসার মোকাবিলায় হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসারের স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে একটি গোলটেবিল বৈঠকের সময় এসব প্রস্তাব ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘অ্যাডভান্সিং ক্যান্সার এডুকেশন, রিসার্চ অ্যান্ড কেয়ার: বিএমইউ’স ভিশন অ্যান্ড লিডারশিপ’ শীর্ষক বৈঠকটি ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) যৌথভাবে আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসক, গবেষক, শিক্ষক, ওষুধশিল্পের প্রতিনিধি, চিকিৎসাপ্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকর্মীরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে বক্তারা উল্লেখ করেন, ক্যানসার চিকিৎসার উন্নয়নে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। বিএমইউতে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা হলে চিকিৎসা, উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার ক্ষেত্রও বিস্তৃত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এর মাধ্যমে ক্যানসার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ ও বিশেষায়িত সেবার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে ক্যানসার প্রতিরোধে উন্নত চিকিৎসা, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বক্তারা বিএমইউকে ক্যানসার শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসাসেবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা ক্যানসারের বোঝা কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ, এইচপিভি টিকাদান, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসারের স্ক্রিনিং এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশে ক্যানসারের প্রকৃত চিত্র জানতে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়। এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে দেশে ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, রোগের ধরন ও বিস্তারের প্রবণতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, গবেষণা এবং চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ সহজ হবে।
বৈঠকে বিএমইউ’র ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন বিভাগের অগ্রগতি, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সায়েন্টিফিক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
২০০৫ সালের ১৯ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ গত ২১ বছরে ক্যানসার চিকিৎসা, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিভাগটিতে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপিসহ বিভিন্ন আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্নাতকোত্তর শিক্ষা, মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিউমার বোর্ড, চিকিৎসা পরিকল্পনা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন