প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ন্যাটোর ঐক্য বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জোটভুক্ত যে কোনো দেশে সীমিত পরিসরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করতে পারেন। এই চাঞ্চল্যকর দাবি আমেরিকান সংবাদপত্র ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর একটি প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের উদ্ধৃতি দিয়ে করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাশিয়া সাইবার হামলা ও গোপন অভিযানসহ ছোট আকারের সামরিক অনুপ্রবেশের মতো নানা সম্ভাব্য পদক্ষেপের দিকে নজর দিচ্ছে মার্কিন গোয়েন্দারা।
ওয়াশিংটনের এই মূল্যায়নকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে ধারণা ছিল, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যস্ত থাকার কারণে পুতিন ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যেতে চান না। তবে সেই অবস্থান থেকে এখন ওয়াশিংটন সরে এসেছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এবং ভারী ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতির গতি ধীর হয়ে আসায় রাশিয়ার ওপর একাধিক দিক থেকে চাপ বাড়ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা ওই প্রতিবেদনে জানান, ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার যেকোনো পদক্ষেপ মূলত অঞ্চল দখলের উদ্দেশ্যে নয়, বরং জোটের ভেতরে ফাটলকে জনসম্মুখে প্রকাশ করার জন্য হতে পারে।
পুতিনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের গবেষক হিদার কনলি মন্তব্য করেছেন, ‘এমন ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে সেটাই বড় প্রশ্ন। রাশিয়ার অন্যতম লক্ষ্য হলো ন্যাটোর বিশ্বাসযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করা এবং বন্ধুদের থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আলাদা করা।’
মার্কিন ও ইউরোপীয় নেতারা ইতোমধ্যেই ন্যাটোর আকাশসীমায় রাশিয়ার কার্যকলাপকে সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন। তারা পোল্যান্ডে রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পড়া এবং রোমানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের ঘটনাকে উল্লেখ করছেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকলে মস্কো বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। এর মধ্যে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর বড় সাইবার আক্রমণ চালানো, পরিচয়হীন সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে ন্যাটোর সীমান্ত অঞ্চলের ছোট এলাকা দখল করা, এবং ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে সীমিত সামরিক উপস্থিতি ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ চলতি বছরের শরৎকাল থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে যেকোনো সময় ঘটতে পারে।
স্থানীয় স্থলে আক্রমণের সম্ভাবনা কম কারণ এতে ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’ নামের যৌথ প্রতিরক্ষা বিধি কার্যকর হয়ে যাবে। তবে হাইব্রিড বা ছায়াযুদ্ধের ক্ষেত্রে ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া কাঠামো কিছুটা ধোঁয়াশাপূর্ণ।
ন্যাটো জানিয়েছে, তারা যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পুরোপুরি প্রস্তুত। ন্যাটোর মুখপাত্র কর্নেল মার্টিন ও’ডনেল বললেন, ‘আমরা সব পরিস্থিতির জন্য পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে আছি। ন্যাটো কড়া নজর রাখছে এবং যেকোনো হামলা মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত।’
রুশ হুমকির এই নতুন গোয়েন্দা তথ্যের মধ্যে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন। দীর্ঘদিনের ইউক্রেন সহায়তা এবং সম্প্রতি ইরান সীমান্তে সামরিক অপারেশন চালানোর ফলে লং রেঞ্জ প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল, ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটাকমস), এবং স্টিঙ্গার মিসাইলের মজুত কমে গেছে। এছাড়াও, প্যাট্রিয়ট, এসএম-৩ এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও চাপের মুখে রয়েছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) সামরিক বিশেষজ্ঞ টম কারাকো জানান, রাশিয়ান আগ্রাসন মোকাবিলায় স্টিঙ্গার এবং এটাকমসের মতো ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিএসআইএস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ১,০৬০ থেকে ১,৪৩০টির মতো প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার ফলে তাদের হাতে হয়তো ৮৭০টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে।
পেন্টাগনের জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ধীরে ধীরে কমছে। যদিও পেন্টাগন এবং হোয়াইট হাউস দাবি করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে কোনো কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে এবং সামরিক ঠিকাদারদের উৎপাদন বৃদ্ধি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন