প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর চর্বি সমৃদ্ধ। এই পরিস্থিতির ফলে খাদ্যজনিত বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ অবস্থায় খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের সামনের দিকে সহজবোধ্য সতর্কবার্তা বা ‘ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল)’ চালু করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার রাজধানীর বিআইপি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল): প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা এই বিষয়টি তুলে ধরেন। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের ২৬ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা জানান, বাংলাদেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে ৭১ শতাংশ মানুষের মৃত্যু ঘটছে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এসব রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের পেছনে ছোট অক্ষরে লেখা জটিল পুষ্টি তথ্য সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ভোক্তারা সহজে জানতে পারছেন না, কোনো খাবারে অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা ক্ষতিকর চর্বি রয়েছে কি না।
তারা উল্লেখ করেন, খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের মোড়কের সামনের দিকে স্পষ্ট ও সহজবোধ্য সতর্কবার্তা চালু করা একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। এর মাধ্যমে ভোক্তারা খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ‘খসড়া প্রবিধানমালাটি বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে এটি দ্রুতই চূড়ান্ত হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এফওপিএল একটি বিজ্ঞানসম্মত উপায়। এটি ভোক্তাকে সহজেই অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি বুঝতে সাহায্য করবে।’
জিএইচএআইয়ের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, ‘অসংক্রামক রোগে মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এফওপিএল প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়ন জরুরি।’
চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় এফওপিএলের কার্যকারিতা তুলে ধরে গণমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা ও বিশ্লেষণ খসড়া প্রবিধানমালা চূড়ান্তকরণের পথ সুগম করবে।’
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স—আত্মার কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার ও প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন