প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী কলেজের অনার্সে অধ্যয়নরত একটি শিক্ষার্থী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে একজন দীর্ঘদিনের প্রেমিককে বিয়ে করেছেন বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে, তাঁর পরিবার এই বিয়েকে কেন্দ্র করে আপত্তি প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ওই শিক্ষার্থী নিজের দাবি করেছেন যে তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে তাঁর ওপর কখনোই কোনো ধরনের জোর বা চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।
বর্তমানে তরুণীর নামে অন্বেষা ইসলাম অর্পা (১৯) এবং তিনি পূর্বে নাম ছিলেন অন্বেষা সাহা। তিনি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার হাটসিংড়া গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব কুমার সাহা ও বাসনা সাহা চন্দ্রিমার কন্যা। তাঁর স্বামী রিয়াজুল ইসলাম উদ্দিন রিয়াজ (২৩) রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালী থানার মিরকামারী এলাকার বাসিন্দা এবং রবিউল ইসলামের ছেলে।
অন্বেষা ইসলাম অর্পা দাবি করেছেন, তিনি গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। একই দিনে রাজশাহীতে প্রচলিত আইন ও ইসলামী শরিয়াহ অনুসরণ করে তিনি রিয়াজুল ইসলাম উদ্দিন রিয়াজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এখন তারা একসঙ্গে সংসার করছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
তাঁর অভিযোগ, পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন আত্মীয় তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং দাবি করছেন যে তাঁকে জোরপূর্বক বিয়ে করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গত তিন বছর ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি নিজের ইচ্ছা ও বিশ্বাস থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও রিয়াজকে বিয়ে করেছেন।
অন্বেষা বলেন, "আমি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি এবং নিজের ইচ্ছায় রিয়াজকে বিয়ে করেছি। আমাকে কেউ জোর করেনি বা ভয়ভীতি দেখায়নি। আমার পরিবার যদি আমাকে মেনে না নেয়, সেটি তাদের বিষয়। তবে তারা যেন কোনো ধরনের অশান্তি সৃষ্টি না করে। আমি আমার স্বামীর সঙ্গে সারাজীবন থাকতে চাই।"
তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, তাঁর পরিবারের সদস্যরা বারবার পুলিশের সাহায্য নিয়ে তাঁর স্বামীর বাড়িতে গিয়েছেন তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের আত্মগোপনে থাকতে হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, তিনি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তিনি একজন সাবালিকা এবং নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত অধিকার তাঁর রয়েছে।
এদিকে, রিয়াজের দাদি সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেন যে, প্রায়ই পুলিশ তাঁদের বাড়িতে এসে নাতি ও নাতবধূর খোঁজ করছে। এ কারণে পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে, নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে সম্পাদিত একটি এফিডেভিটে অন্বেষা ইসলাম অর্পা উল্লেখ করেন যে, ইসলামের প্রতি বিশ্বাস থেকে এবং পরকালীন শান্তি ও কল্যাণের প্রত্যাশায় তিনি স্বেচ্ছায় কালেমা পাঠের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি পূর্বের নাম পরিবর্তন করে "অন্বেষা ইসলাম অর্পা" নাম গ্রহণের ঘোষণা দেন।
এফিডেভিটে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ধর্মান্তরের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর কোনো ব্যক্তি বলপ্রয়োগ, প্রলোভন বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করেননি; বরং তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও নিজ সিদ্ধান্তে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ভবিষ্যতে সরকারি ও ব্যক্তিগত সব নথিতে নতুন নাম ব্যবহারের কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে কাটাখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন কাদেরী ঢাকা জানান, মেয়ের পরিবার থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। তাঁদের কাজ হলো তরুণীকে উদ্ধার করে তাঁর বক্তব্য নেওয়া এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন