প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের উদ্দেশ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘ আলোচনার পর জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করে। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর সেই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে। সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার- এই প্রশ্নে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধে রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা রাজনৈতিক বিরোধের কারণে বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামায় সই করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল। পরে গণফোরাম ও জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) সনদে সই করে। তবে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশগ্রহণ করলেও বামধারার চারটি দল সনদে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানায়।
সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের একটি ভিত্তি তৈরি হলেও বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিএনপি সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দাবি, মৌলিক সংবিধান সংস্কার প্রয়োজন, কেবল সংশোধন নয়। এ নিয়ে সংসদে এবং সংসদের বাইরেও রাজনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটি পেশাজীবীদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত সাতটি বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে সংসদে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবগুলো নিয়ে আবারও গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে।
দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর ও টেকসই সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, “সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে বসেছে। আমরা যাদের কাছে মতামত জানতে চাচ্ছি, কী করলে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংবিধান সংশোধন করতে পারি, সে বিষয়ে তাদের পরামর্শ নিচ্ছি।”
বিরোধী দলের জন্য কমিটির দরজা খোলা রয়েছে জানিয়ে চিফ হুইপ আরও বলেন, “বিরোধী দলের জন্য সবসময় দরজা খোলা রয়েছে। কমিটিতে তাদের আমরা স্বাগত জানাই। সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই।”
তবে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আপত্তি রয়েছে। দলটির দাবি, বিরোধী দলের মতামত উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিলে তা ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। বিশেষ কমিটিকে বয়কট করে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিরোধী দল কমিটিতে না গেলেও সরকারের কার্যক্রম থেমে থাকবে না—এমন মনোভাব ক্ষমতাসীনদের মধ্যে ফ্যাসিবাদী প্রবণতার প্রতিফলন।’
অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি আগেও ক্ষমতায় থাকাকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা মানতে চায়নি। কিন্তু একপর্যায়ে সেই ব্যবস্থা মেনে নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিল পাস করে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল দলটিকে। তাই এত অহংকার ভালো না।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘বিরোধী দলসহ সংসদে ৯০ জন সদস্য রয়েছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ১১টি দল আন্দোলন করছে। তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’
এদিকে, বিরোধী দলের মতামত ছাড়া সংবিধান সংশোধন করা হলে ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জামায়াত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন