প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর মওকুফের অর্থের ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষার গুণগত মান ও গবেষণায় ব্যয়ের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, সরকারি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তদারকি বা ‘সেলফ-রেগুলেশন’ অধিক জরুরি।
রোববার (১২ জুলাই) দি ওয়েস্টিন ঢাকায় বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি আয়োজিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ বাস্তবায়নে দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় সভায় এই সব কথা বলেন।
২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের অর্থনৈতিক মূলধারার বাইরে থাকা সমস্ত খাত ও প্রান্তিক জনগণের জিডিপির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, জিডিপি শুধু শিল্পকারখানার উৎপাদন নির্দেশ করে না; থিয়েটার, মিউজিক, চারুকলা এবং গ্রামীণ কুটিরশিল্পের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে আর্থিক মূল্যায়ন করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর মওকুফের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষা একটি অলাভজনক খাত, যেখানে মুনাফা করার সুযোগ নেই। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দুর্বল অর্থনীতি, প্রচুর অভ্যন্তরীণ বকেয়া এবং প্রায় ২৩৫ বিলিয়ন ডলার পাচারের মতো কঠিন পরিস্থিতি কারণে সত্ত্বেও আমরা নীতিগতভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত কর মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী বছর থেকে এই ৫ শতাংশ করের টাকা আপনাদের কাছেই থাকবে। কিন্তু এই সাশ্রয় হওয়া অর্থ যেন শিক্ষার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বেঞ্চমার্ক অর্জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেটিং বৃদ্ধির জন্য গবেষণার কাজে ব্যয় করা হয়।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের দল (বিএনপি) জন্মলগ্ন থেকেই বেসরকারি খাত-চালিত প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বাসী। সরকার একা সবকিছু করতে সক্ষম নয়, বরং সরকার কেবল সুবিধা দাতা।’ তাই দেশের টেকসই উন্নয়নে তিনি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চান।
বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সরকারের নীতিমালায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এবারের বাজেটে সবকিছু ৫ বছরের জন্য সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে সক্ষম হন। আইসিটি খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ও স্থানীয় আইসিটি কোম্পানিগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমাজে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সেদিকে নজর রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আইন চাপিয়ে দিয়ে রেগুলেশন করতে বিশ্বাসী নয়। বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং তাদের সমিতিকে ‘সেলফ-রেগুলেশন’ বা আত্ম-নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেদের সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। দেশের নৈতিক অবক্ষয় দূর করার জন্য প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. সবুর খান এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মামুন আহমেদ উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণার প্রসারের জন্য সরকারের এই সময়োপযোগী এবং বেসরকারি খাত-বান্ধব দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। এছাড়া তারা জাতীয় উন্নয়নে সরকারের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন