প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষার জন্য লড়াইয়ে প্রবীণ নাগরিকরা এবার তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমেছেন। সম্প্রতি দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অনুষ্ঠিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে সমাজের প্রবীণদের একটি বড় অংশকে দেখা গেছে, যাঁদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা, আইন পেশা কিংবা সরকারি উচ্চপদস্থ চাকরির মতো দীর্ঘ পেশাগত জীবন কাটিয়ে আজ গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হয়েছেন।
২৩ অক্টোবর ‘পিপল অ্যাগেইনস্ট এসআইআর’-এর ব্যানারে মানবাধিকার কর্মী, ছাত্র সংগঠন, কৃষক ও সাধারণ নাগরিকরা ভারতের নির্বাচন কমিশনের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করেন। পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর বাধার কারণে সেই মার্চ আটকে গেলেও, প্রবীণ নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা প্রদান করে।
দ্য ওয়্যার-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা পারিবারিক পরিসরে প্রতিবাদের সমালোচনা কিংবা তরুণ প্রজন্মকে হেয় প্রতিপন্ন করার প্রচলিত ট্রেন্ডের বিপরীতে গিয়ে প্রবীণরা রাজপথে নেমেছেন। তাঁদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভোটাধিকার হরণের যে চক্রান্ত চলছে, তা কেবল তরুণদের একক লড়াই নয়, বরং গোটা জাতির টিকে থাকার লড়াই।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের প্রাক্তন শিক্ষিকা নিরজ খান্না এই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বলেন, “আমার গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোট দেওয়ার ক্ষমতা আজ তীব্র সংকটে। এসআইআর-এর মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা চলছে। আমরা যদি আজ রুখে না দাঁড়াই, তবে আগামী প্রজন্মকে একনায়কতন্ত্রের মধ্যে বাস করতে বাধ্য হতে হবে। তাই নিজের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আজ আমার এই অবস্থান।”
দীর্ঘ ৩০ বছর ‘নবভারত টাইমস’-এ সাংবাদিকতা করা মানবাধিকার কর্মী অনিল দুবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই আইন কেবল জনবিরোধীই নয়, এটি সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের বিরুদ্ধে এক প্রকার যুদ্ধ ঘোষণা। দেশের যুবসমাজ যখন শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসার অভাবে চরম হতাশার শিকার, তখন নাগরিকদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে বলা লজ্জার। আমাদের প্রজন্মের সময় তো ফুরিয়ে আসছে, তাই জেন জি-র পাশে দাঁড়ানোই আমাদের ন্যূনতম কর্তব্য।”
আন্দোলনস্থলে উপস্থিত প্রবীণরা কেবল প্রতিবাদেই অংশ নেননি, বরং তরুণ ও সাধারণ মানুষের মাঝে নিজেদের জীবনলব্ধ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বিলিয়ে দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস.এস. নেহরা বলেন, “প্রতিবাদ হলো একটি সংলাপের মতো। সরকার ও নির্বাচন কমিশন যতই পালানোর চেষ্টা করুক না কেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এবং সংলাপের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।”
জাতীয় ফেডারেশন ফর ইন্ডিয়ান উইমেন (এনএফআইডব্লিউ)-এর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ও নেত্রী অ্যানি রাজা বলেন, “প্রতিটি প্রতিবাদই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সংবিধানই আমাদের প্রাণভোমরা। দেশ ও সংবিধান রক্ষার্থে যন্তর মন্তর বা নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডি নয়, জাতীয় পতাকা হাতে আমরা যেখানেই দাঁড়াব, সেটাই প্রতিবাদের মঞ্চ হয়ে উঠবে।”
প্রখ্যাত উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ এবং ৭৭ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আমলাও এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বলেন, দমন-পীড়নের মধ্যেও তারা আশার আলো দেখছেন। কাঁপতে থাকা পায়েও তরুণদের পাশে এসে দাঁড়ানোকে তাঁরা জীবনের একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা বলে মনে করেন।
গণতন্ত্রের বহু লড়াইয়ের সাক্ষী ভারতীয় প্রবীণদের বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকে আরও বেশি নৈতিক শক্তি জোগাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন