প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য আনার লক্ষ্যে, কেমিক্যালস ও ডাইসের আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের জুট ইয়ার্ন ও ওষুধ কেনার জন্য আহ্বান জানিয়েছে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা পাকিস্তান সফর করলে সেখানকার আমদানিকারক ও বায়ারদের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার।
রবিবার (৪ অক্টোবর) উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। বৈঠকে বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ সোহেল এবং মহাসচিব মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. সাহেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ সূত্র জানায়, বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামালসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। কিন্তু সেখানে রপ্তানি তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বৈঠকে এই ঘাটতি কমানোর জন্য তাগিদ দেওয়া হয়।
পাকিস্তানের বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি বাংলাদেশে ৭১৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর বিপরীতে, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে আমদানি ছিল ৬৭ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ১০ গুণ কম। আগের অর্থবছরের তুলনায় পাকিস্তানের রপ্তানি ৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বাংলাদেশের রপ্তানি ১৪ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।
বিজিএমইএর সভাপতি পাকিস্তান থেকে কেমিক্যালস ও ডাইসের আমদানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশের জুট ইয়ার্ন ও আন্তর্জাতিক মানের জীবন রক্ষাকারী ওষুধের বড় পরিসরে আমদানির অনুরোধ জানান। হাইকমিশনার এসব প্রস্তাবে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকরা পাকিস্তান সফর করলে সেখানকার শীর্ষ আমদানিকারক, ব্র্যান্ড, বায়ার ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট বিটুবি বৈঠক ও ম্যাচ-মেকিং সেশনের আয়োজন করা হবে।
বৈঠকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে দক্ষিণ এশীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায় বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়। উত্তরণের পর এই সুবিধায় পরিবর্তন আসবে। বাণিজ্য প্রবাহ সুরক্ষিত রাখতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক মুক্তবাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
লজিস্টিকস প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সভাপতি জানান, সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে সময় বেশি লাগছে। এটি কমানো জরুরি। দুই দেশের সহযোগিতায় এ বাধা দূর করা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতেও সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে। হাইকমিশনার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) এবং পাকিস্তানের শীর্ষ ফ্যাশন ও টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান আদান-প্রদানের প্রস্তাব দেন। টেক্সটাইল প্রযুক্তিতে যৌথ উদ্যোগের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করে যে, আলোচনা দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন