প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর জেলার একটি মসজিদ এবং দোকানঘর কমপ্লেক্স খালি করতে প্রশাসন সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পর রাজ্যজুড়ে বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের এই উচ্ছেদ নোটিশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক উত্তাপ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সীতাপুরের লাহারপুর তহসিলের পক্ষ থেকে ‘মাদ্রাসা ইসলামিয়া জিয়া-উল-উলুম’-এর মুতাওয়াল্লি (পরিচালক) মাওলানা শাহিদ আলীর কাছে গত ৫ অক্টোবর একটি উচ্ছেদ নোটিশ পাঠানো হয়। লাহারপুর তহশিলদার আদালতের গত ১৫ মে-র একটি আদেশের কথা উল্লেখ করে ওই নোটিশে বলা হয়, আহমেদাবাদ গ্রামের কবরস্থানের জমির একটি অংশে (মোট ০.১৯৪ হেক্টরের মধ্যে ০.০৩১৮ হেক্টর) স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি দখল। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ওই অবৈধ নির্মাণ খালি করে জমির দখল গ্রাম সভার হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পত্তি খালি না হলে প্রশাসন বুলডোজার চালিয়ে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করবে বলে জানানো হয়েছে। উচ্ছেদের সমস্ত খরচ ও জরিমানার অর্থ দখলদারদের কাছ থেকেই আদায় করা হবে বলে প্রশাসন সঙ্কেত দিয়েছে।
এই পুরো প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মসজিদ কমিটির ম্যানেজার মাওলানা শাহিদ আলী। তিনি দ্য ওয়্যার-কে জানিয়েছেন, সীতাপুরের এই কমপ্লেক্সটিতে একটি সক্রিয় মসজিদ রয়েছে, যার নিচে ১২টি বাণিজ্যিক দোকান রয়েছে। এছাড়া ১৯ সাল থেকে সেখানে একটি মাদ্রাসাও পরিচালিত হয়ে আসছে।
মাওলানা আলীর দাবি, জমিটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত। তবে রাজ্য সরকার এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে যে এটি একটি সরকারি সম্পত্তি, যা ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কমিটি পরিচালনা করে। এই জমির মালিকানা এবং আইনি এখতিয়ার নিয়ে ইতিমধ্যেই এলাহাবাদ হাইকোর্টে একটি জটিল আইনি লড়াই চলছে। চলতি বছরের জুন মাসে হাইকোর্ট এই মামলার শুনানিতে সম্পত্তি এবং প্রকৃতির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক নোটিশে রাজস্ব পরিদর্শক দাবি করেছেন যে, গত আগস্টে শুনানি শেষ হওয়ার পর সেই স্থিতাবস্থার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, মসজিদ কমিটির দাবি, আদালতের বিচারাধীন কোনো বিষয়ে সরাসরি মসজিদের গেটে উচ্ছেদ নোটিশ সেঁটে দেওয়া আদালতের অবমাননার শামিল।
মাওলানা আলী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, "আদালত যদি শেষ পর্যন্ত আমাদের অবৈধ ঘোষণা করে, তবে প্রশাসনকে কষ্ট করতে হবে না, আমরা নিজেরাই তা সরিয়ে নেব। বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে, প্রয়োজনে আমরা সুপ্রিম কোর্টেও যাব।"
লাহারপুরের তহসিলদার মনিষ ত্রিপাঠী এবং সীতাপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজা গণপতি সরকারের জমি রক্ষা এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানিয়েছেন যে নিয়ম মেনেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে নথিপত্র অনুযায়ী, ওই এলাকায় অবস্থিত নগর পঞ্চায়েত দীর্ঘদিন ধরে এই কাঠামোগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে, এমনকি পৌর কর আদায় এবং কাঠামো মেরামত ও সংস্কারের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমতিও দিয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি স্বীকৃতি ও কর নেওয়ার পর হঠাৎ করে প্রশাসন কীভাবে এই প্রাচীন কাঠামোকে বেআইনি দখল বলে ঘোষণা করতে পারে?
উত্তরপ্রদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মাওলানা আলী অভিযোগ করেছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং তাদের ধর্মীয় স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর অংশ হিসেবেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং আইনি সুরক্ষা পেতে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন