প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ‘এশিয়া প্যাসেফিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিষ্ট অ্যান্ড ইনোভেশন (এপিইউ)’ এ আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়াল্ড স্কুল সামিট-এর উদ্যোগে ২৬ সেপ্টেম্বর এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়, যেখানে বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশ থেকে শিক্ষাবিদ, স্কুল ডিরেক্টর, শিক্ষা উদ্যোক্তা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের যুগে শিক্ষাকে কীভাবে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করা যায়, শিক্ষার্থী গঠনে অভিভাবক ও শিক্ষকদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে ব্যাপক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন মাদ্রাসা আবু হুরায়রার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি মোহাম্মদ মুসা খান। তিনি শিক্ষা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও দক্ষতাভিত্তিক বিকাশ এবং আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয় নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।
মুফতি মোহাম্মদ মুসা খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষা শুধু নলেজের নাম নয়; শিক্ষা হলো নৈতিকতা ও দক্ষতার সমন্বয়।” তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্বে তথ্য ও জ্ঞান অর্জন করাই যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা, বাস্তব দক্ষতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। মাদ্রাসা আবু হুরায়রা কীভাবে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলছে, সে বিষয়টিও তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন। শিক্ষকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠন, মানসিক বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
মুফতি মোহাম্মদ মুসা খান মাদ্রাসা আবু হুরায়রার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তির মাধ্যমে সহযোগিতা করে থাকে। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ ও মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা আবু হুরায়রায় বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট ১০টি শাখায় প্রায় ২৫০ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে হিফজুল কোরআন বিভাগে রয়েছে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমে আধুনিক সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি মুফতি মোহাম্মদ মুসা খান ‘স্কুল ডিরেক্টর অব দি ইয়ার” ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি লাভ করেন এবং তাঁর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি এ স্বীকৃতি তাঁর শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন