প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরগুনার আমতলী উপজেলায় অংশীদারদের অংশগ্রহণে এরিয়া প্রোগ্রামের বার্ষিক পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, যুব প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা সকলেই এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, শিশু সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার উন্নয়ন ও কমিউনিটি অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আমতলী উপজেলার সোনালী কমিউনিটি সেন্টারে আমতলী এরিয়া প্রোগ্রাম (এপি), ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)-এর যৌথ আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, আমতলী এরিয়া প্রোগ্রামের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিভুদান বিশ্বাস। কর্মশালা সঞ্চালনা করেন এনএসএস-এর মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন স্পেশালিস্ট আখতারুজ্জামান।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সফিকুল আলম। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না, ওয়ার্ল্ড ভিশন আমতলী এপির চাইল্ড প্রোটেকশন ও এপি স্পন্সরশিপ অফিসার চার্চিল দাস, এনএসএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মৃদুল সরকার, এনএসএস-এর মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার সিনিয়র সাংবাদিক মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক আবু জিহাদ, ওয়ার্ল্ড ভিশনের জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার অতিদাস ও প্রতিভা মণ্ডল, এনএসএস-এর ফিল্ড অপারেশন অফিসার মো. জহিরুল ইসলাম, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার জ্যাকলিন টুম্পা মণ্ডল, খোকন দাস, রাধা রানী এবং তানিয়া আক্তার।
এছাড়াও, কর্মশালায় তারুণ্যের আলো যুব ফোরামের সভাপতি মুক্তারানী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, উপকারভোগী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় গত এক বছরে এরিয়া প্রোগ্রামের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, সাফল্য, চ্যালেঞ্জ ও অর্জন পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে অংশগ্রহণকারীদের মতামত গ্রহণ করা হয়। আলোচনায় শিশু সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, জীবিকা উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নারী-যুব উন্নয়ন এবং কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জবাবদিহিমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক কর্মশালার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীরা আগামী বছরের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন