প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর হামলার ঘটনার পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতের কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। মুম্বাইয়ে একের পর এক অপরাধের ঘটনার সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে উঠলেও পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারছে না। গত তিন বছরে শহরটিতে অন্তত চারটি বড় অপরাধের সঙ্গে তার গ্যাংয়ের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে মুম্বাই পুলিশ লরেন্স বিষ্ণোইকে গুজরাটের সবরমতি কারাগার থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাইরে আনতে পারছে না। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, তাকে কারাগার থেকে অন্য কোথাও নেওয়ার অনুমতি নেই। ফলে মুম্বাইয়ে একের পর এক অপরাধের ঘটনার প্রেক্ষিতে তার গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও সরাসরি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না তদন্তকারীদের জন্য।
লরেন্স বিষ্ণোইকে অন্য কোনো সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে বাইরে নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০২৩ সালের আগস্টে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্ত্রণালয় ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৮ ধারার অধীনে এই আদেশ জারি করে।
সম্প্রতি নতুন আইন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ৩০৩ ধারার অধীনে আদেশটি নবায়ন করা হয়েছে। এই আদেশের ফলে আদালতের সাধারণ হাজিরা পরোয়ানা থাকলেও লরেন্স বিষ্ণোইকে কারাগার থেকে অন্য কোথাও নেওয়া যাবে না। একইভাবে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনও গ্রহণ করা যাবে না।
ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তকারী সংস্থাগুলো চাইলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। এ ছাড়া উপযুক্ত আদালতের অনুমতি নিয়ে কারাগারের ভেতরেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে।
গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই পাঞ্জাব, রাজস্থান ও মহারাষ্ট্রসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক মামলার আসামি। বিদেশেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে তিনি গুজরাটের আহমেদাবাদের সবরমতি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি কারাগারে থাকলেও তার গ্যাংয়ের সদস্যরা বাইরে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হত্যা ও হুমকি দেওয়ার মতো অপরাধে জড়িত।
লরেন্স বিষ্ণোই প্রথম কোনো প্রভাবশালী বন্দি নন, যাকে কারাগার থেকে অন্যত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে। ২০১৫ সালে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন ছোটা রাজনকেও একই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয় এবং দিল্লির তিহার কারাগারে রাখা হয়।
কারাগারে থাকাকালে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ছোটা রাজন দাবি করেন, মুম্বাইয়ে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তার অভিযোগ ছিল, মুম্বাই পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা তার প্রতিদ্বন্দ্বী দাউদ ইব্রাহিমের হয়ে কাজ করছিলেন। এদিকে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাই অনমোল বিষ্ণোইও একই ধরনের সুরক্ষা পেয়ে আসছেন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে প্রত্যর্পণের পর তাকে দিল্লির তিহার কারাগারে রাখা হয়।
২০২৪ সালের এপ্রিলে মুম্বাই পুলিশের নজরে আসেন গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। ওই সময় তার গ্যাংয়ের ভাড়া করা কয়েকজন হামলাকারী অভিনেতা সালমান খানের বান্দ্রার বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলি চালায়। পুলিশের দাবি, সালমান খানকে হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল।
সালমান খান দীর্ঘদিন ধরেই লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের লক্ষ্যবস্তু বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের দাবি, সালমান খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই অভিনেতা টাইগার শ্রফসহ অন্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। রবিবার টাইগার শ্রফের ওপর হামলার পর গ্যাংটি আবারও হুমকি দেয়।
তাদের দাবি, কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে সালমান খানকে লরেন্স বিষ্ণোই ও বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তার পরিবারের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, এমনকি তার পোষা কুকুরদেরও নয় বলে হুমকি দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের সদস্যদের যোগসূত্র পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পুলিশ লরেন্স বিষ্ণোইকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করলেও তাকে হেফাজতে নিতে পারেনি। পরে চলচ্চিত্র নির্মাতা রোহিত শেঠির কাছেও চাঁদা দাবির হুমকি আসে। এসব ঘটনা ঘিরে বলিউডের তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন