প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) চাঁদপুর জেলা শাখার মধ্যে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়াম ব্যবহারের জটিলতা ও অনিশ্চয়তা দূর করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ফলপ্রসূ আলোচনা শেষে কোয়াব তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিস রুমে এই যৌথ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন জনু, ফুটবল কমিটির সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মানিক, ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর আহমেদ হাসান আল জায়েদ রিফাই, এবং সাবেক কৃতি ফুটবলার আমিনুল। কোয়াবের প্রতিনিধিত্ব করেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও কোয়াবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রানা, কোয়াব চাঁদপুর ইনচার্জ মোরসালিন খান, সদস্য সাদ্দাম হোসাইন, আল ফাহাদ, সাদ্দাম হোসেন মিঠু ও ফয়সাল হোসেন নকীবসহ স্থানীয় উদীয়মান ক্রিকেট খেলোয়াড়রা।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন জনু মন্তব্য করেন, “আমরা চাই চাঁদপুরে ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিক্স ও কাবাডিসহ সকল ইভেন্টের খেলাধুলা সচল থাকুক। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক চাঁদপুরের খেলাধুলার উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক।” তিনি আরও জানান, স্থানীয় খেলোয়াড়দের স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং ফুটবলের পাশাপাশি সপ্তাহে ১-২ দিন ম্যাচ বাদ দিয়ে বাকি দিনগুলোতে ক্রিকেটারদের মাঠ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার জন্য সুব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোয়াবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জাতীয় দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান রানা বলেন, “অক্টোবর থেকে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত আমাদের মূল ক্রিকেট মৌসুম। এই সময়ে মাঠ না পেলে স্থানীয় ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ ও টুর্নামেন্ট মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” তবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আশ্বাসের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে আলোচনা করে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোয়াব তাদের মানববন্ধনের কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে আলোচনা করে একটি সন্তোষজনক ও মধ্যস্থতামূলক সমাধানের জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে ফুটবল ও ক্রিকেট-উভয় খেলার সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অনুকূলে ‘স্বাধীনতা কাপ ২০২৬’, ‘সুপার কাপ ২০২৬’, ‘ফেডারেশন কাপ ২০২৬-২৭’ এবং ‘বাংলাদেশ ফুটবল লিগ ২০২৬-২৭’-এর খেলা আয়োজনের জন্য চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়াম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আসন্ন বাংলাদেশ ফুটবল লিগে অংশগ্রহণকারী ঐতিহ্যবাহী ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব স্টেডিয়ামটিকে তাদের ‘হোম ভেন্যু’ হিসেবে ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত মাঠ, ড্রেসিং রুমসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাফুফের অনুকূলে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দীর্ঘসময় মাঠ ফুটবলকে দেওয়ায় স্থানীয় ক্রিকেট চর্চা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন