প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে আর ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। অভিভাবকদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে জানানো হয়েছে যে, প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি হবে লটারির পদ্ধতিতে। কিন্তু দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়ন করা হবে, এমনটাই উল্লেখ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিটি পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিকের দ্বারা।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা মূল্যায়ন করা হবে, তবে পরীক্ষার ধরন এবং পদ্ধতি সম্পর্কে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
একই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, চলমান বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ১০ আগস্ট প্রকাশিত হবে। এর আগে গত ১৬ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারিভিত্তিক ভর্তি প্রক্রিয়া বাতিল করে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হবে। তবে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার ঘোষণার পর অভিভাবক এবং শিক্ষাবিদদের পক্ষ থেকে ব্যাপক আপত্তি উঠলে ওই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
শিশুদের ওপর অল্প বয়সে পরীক্ষার চাপ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া কোচিংনির্ভরতা বাড়ানো, প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ এবং ভর্তিতে স্বজনপ্রীতির সমস্যার কারণে ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে লটারিভিত্তিক ভর্তি চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা কার্যকর হয়।
করোনা মহামারীর সময় ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে নবম শ্রেণির সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং এরপর থেকে ওই পদ্ধতিই অনুসরণ করা হচ্ছে।
যখন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা এসেছে, তখন শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এত কম বয়সের শিশুদের পরীক্ষার মুখোমুখি করা মানসিক বিকাশের পক্ষে ক্ষতিকর এবং এটি সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি করতে পারে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেছেন, ভর্তি পরীক্ষা কোচিংনির্ভরতা বাড়ায় এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিশুরা এতে পিছিয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনও বলেছেন, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া উচিত নয়। এতে কোচিং বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন