প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পাঁচ মাসের মধ্যে জেলার ১০টি উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এসব উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সড়ক, হাটবাজার, সামাজিক অবকাঠামো, সেতু-কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ এবং সেচ খাল খনন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মোট ব্যয় হয়েছে ১৪৯ কোটি ১৮ লাখ ৬২ হাজার ১০০ টাকা।
এলজিইডির বরিশাল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ৭ দশমিক ৩৬৬ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ৪ দশমিক ৬৯৩ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং ৮ দশমিক ২৯ কিলোমিটার পাকা সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ করা হয়েছে। সড়ক উন্নয়নের আওতায় মোট ২০ দশমিক ৩৪৯ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যার জন্য ব্যয় হয়েছে ২৮৪৭ দশমিক ৭৯১ লাখ টাকা।
একই সময়ে ৫১৮ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে, যার জন্য ব্যয় হয়েছে ৬৭২৯ দশমিক ৯৭ লাখ টাকা।
এছাড়া, একটি হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টারের উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে, যা ৩৪৩ দশমিক ১৩ লাখ টাকায় বাস্তবায়িত হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪২টি সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, যার মধ্যে মসজিদ, কবরস্থান ও মন্দির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব কাজে ব্যয় হয়েছে ১৭৭ দশমিক ৭৬ লাখ টাকা।
এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান সড়ক সচল রাখতে ৫৭ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সড়কের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয়েছে ২৩২০ দশমিক ০৭ লাখ টাকা। একই সময়ে, জেলার ১০টি উপজেলায় ১২২৮ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার ব্রিজ ও কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে, যার জন্য ব্যয় হয়েছে ২৪৪২ দশমিক ৬২ লাখ টাকা।
কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৫ দশমিক ১৭ কিলোমিটার খননকৃত সেচ খাল এবং পুনঃখনন করা হয়েছে, যার ব্যয় ৫৭ দশমিক ২৮ লাখ টাকা।
এলজিইডি সূত্রে আরও জানা গেছে, বরিশাল সদর ও মুলাদী উপজেলায় দুটি সড়ক প্রশস্তকরণ করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করেছে এবং গ্রামীণ পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে।
গৌরনদী ও উজিরপুর উপজেলায় দুটি নান্দনিক আরসিসি আর্চ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রকৌশল কৌশলে নির্মিত এসব ব্রিজের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে।
জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বাসসকে জানান, এলজিইডির উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ করা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন সড়ক ও সেতু-কালভার্ট নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হাটবাজার, গ্রোথ সেন্টার, সামাজিক অবকাঠামো ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের যোগাযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হচ্ছে।
এলজিইডি কর্মকর্তারা জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাস্তবায়িত এসব কার্যক্রম গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত এবং স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন