০৩:০২ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পুলতাকান্দা বালুর মাঠের সামনের একটি মার্কেটের জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক তিনটি দোকানে তালা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে এসব অভিযোগ করেন জায়গা ও দোকানের মালিক ভুক্তভোগী হাসানুল ইসলাম মুন্না।
তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে শিবপুরের টানকৃষ্ণগর ও ভৈরব পৌরসভার ৫/৬ যুবক মার্কেটের সামনে এসে দোকানে তালা লাগানোর কথা বললে প্রত্যক্ষদর্ষী লোকজন বাধা দিতে আসে। তখন তারা ভৈরব উপজেলা যুবদল সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আল-মামুনের নির্দেশে তালা দিচ্ছে বলে তাদের হুমকি ধামকি দিয়ে তিনটি তালা লাগিয়ে চলে যায়।
ভূক্তভোগী হাসানুল ইসলাম মুন্না আরও বলেন, ঢাকা সিদ্দিক বাজারে তিনি পাদুকা ব্যবসা করেন। ভৈরবের পুলতাকান্দায় পৈত্রিক বাড়ী হলেও, তার জন্ম পুরান ঢাকায়। গত ৪০ বছর আগে তাঁর বাবা পুলতাকান্দায় বাড়ির পাশেই ৩২ শতক জায়গা কিনেন। এসব জায়গা তার ভাইবোনের নামে খারিজসহ সকল বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত খাজনাও পরিশোধ করা হয়েছে। গত দুই বছর আগে এখানে দোকান ঘর করে ভাড়া দিয়েছি।
আরও পড়ুন: মঠবাড়ীয়ায় শিক্ষক নিয়োগে জাল সনদ ও লাখ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
তিনি বলেন, ঘটনার সময় শুক্রবার আমি ঢাকায় ছিলাম। ঘটনার পরপর বাড়ি থেকে বিষয়টি অবগত করে আমাকে। শনিবার দুপুরে বাড়ি এসে জানতে পারি তারা ওই জায়গায় ৪শতাংশের মালিকানা দাবি করেন এবং
সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আল মামুনের নির্দেশে টানকৃষ্ণগরের খায়রুল ইসলাম ও পৌর সভার খুশনো মিয়া সহ ৫/৬জন যুবক আমার দোকানের ভাড়াটিয়াদেরকে বের করে জোরপূর্বক তালা মারে। এছাড়াও তিনি বলেন, এবিষয়ে ১০মাস আগে ভাইস চেয়ারম্যান আল মামুন তাকে ফোন করে জায়গার বিষয়ে কথা বলেন যে জায়গায় অন্যান্য ওয়ারিশদের কাছ থেকে জায়গা ক্রয় করেছেন। তখন ভাইস চেয়ারম্যানকে তিনি বলেন, ওয়ারিশ দাবিকারীদের সঙ্গে আদালতে মামলা আছে, জায়গা যদি কিনেন তাহলে ওয়ারিশদের বলেন তারা জায়গা বুঝিয়ে দিতে।
ভুক্তভোগী মুন্না আরও জানান, এবিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আজ রবিবার তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দেয়া হবে। দোকানের তালা খুলে দিতে এবং নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।
এবিষয়ে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্ষী জানান, একদল যুবক এসে দোকানগুলোতে তালা দিতে চাইলে তারা বাধা দেন। তখন তারা ভাইস চেয়ারম্যান আল মামুনের নাম বলে তালা লাগিয়ে চলে যায়। এধরণের ঘটনা পুলতাকান্দা এলাকায় আরও ঘটে বলে তাদের দাবি। তারা বলেন, একটা চক্র ওয়ারিশ খুঁজে বের করে কম দামে ঝামেলার জায়গা ক্রয় করে জোরপূর্বক দখল করে থাকে। এধরনের ঘটনার প্রতিকার চান এলাকাবাসী লোকজন।
এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা যুবদল সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আল-মামুন বলেন, পুলতাকান্দা এলাকায় দোকানঘরে তালা মারা বিষয়ে আমি অবগত নয়। আমরা নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়া হচ্ছে। আমি ওইখানে কোন জায়গাও ক্রয় করিনি। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার কাছে বিভিন্ন ধরনের লোকজন আসে তাদের সমস্যা নিয়ে। মুন্নাকে আমি চিনিনা। জায়গা যারা ক্রয় করেছে একটা পক্ষ গত কোরবানির ঈদের আগে আমার কাছে এসেছে। আমি তখন মুন্নাকে ফোন করি জায়গার বিষয়ে বসা যায় কিনা। তখন মুন্না বললো এটা তার বাপদাদার কেনা জায়গা এটা নিয়ে বসবে না সে। তারপর আর কখনো তার সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি।
আরও পড়ুন: রাঙামাটির সাজেকে দশম দিনে অবরোধ, আতঙ্কে বাসিন্দারা এলাকা ছাড়ছেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন