প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নাম বগুড়ার রাজনীতিতে তিনটি বিষয়কে ঘিরে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। প্রথমত, তাঁর পরিবারের নামের সঙ্গে মিল রেখে তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ এবং পরে সেই নাম বাতিলের সরকারি নির্দেশ। দ্বিতীয়ত, বগুড়া–সিরাজগঞ্জ রেলপথের রুট পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান। তৃতীয়ত, মোকামতলাকে পৌরসভা করার উদ্যোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি থেমে যাওয়া।
পর্যবেক্ষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, ঘটনা তিনটি ভিন্ন ভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিষয় হলেও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এগুলো কি কেবল বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি একই সময়ের রাজনৈতিক বার্তার অংশ? প্রথমত, নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের নাম নিয়ে বিতর্ক একটি বিষয়। নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় 'সীমান্ত' ও 'দিগন্ত'। একই সময়ে শিবগঞ্জের একটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় 'মীরবাড়ি'। অভিযোগ ওঠে, 'সীমান্ত' ও 'দিগন্ত' প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নাম এবং 'মীরবাড়ি' তাঁর পৈতৃক বাড়ির নামের সঙ্গে মিলে যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, জাতীয় গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে সংসদে তিনি দাবি করেন, নামগুলো স্থানীয় গণশুনানি ও প্রচলিত বিধি অনুসরণ করেই নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিতর্ক বেড়ে গেলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই তিন বিতর্কিত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
দ্বিতীয়ত, বহুল প্রতীক্ষিত বগুড়া–সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্পে প্রতিমন্ত্রী রুট পরিবর্তনের জন্য রেল মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত প্রস্তাব দেন। তাঁর দেয়া প্রস্তাবনায় ছিল, প্রকল্পের আওতায় রেললাইন বগুড়া শহরে প্রবেশ না করে রানীরহাট থেকে গাবতলীর দিকে নেওয়া যেতে পারে; তাহলে বগুড়া নগরীর যানজট সমস্যার স্থায়ী ও সহজ সমাধান মিলবে। তবে রেল মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করে শেষ পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত রুটই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে প্রতিমন্ত্রীর এই প্রস্তাবও কার্যকর হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পের ব্যয়, সময় এবং পূর্ব অনুমোদিত নকশা পরিবর্তনের জটিলতাও এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
তৃতীয়ত, নতুন গঠিত মোকামতলা উপজেলা করার উদ্যোগটির দৃশ্যমান অগ্রগতি থাকলেও একই এলাকার পৌরসভা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভা ঘোষণার প্রত্যাশা করলেও চূড়ান্ত গেজেট বা সরকারি ঘোষণা এখনো প্রকাশিত হয়নি। এই তিনটি ঘটনায় বিতর্কের পর সরকারি হস্তক্ষেপে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্য দুটি ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রীর প্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
বিষয়গুলো নিয়ে বগুড়া বিএনপির বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কেউই মিডিয়ায় স্বনামে কথা বলতে রাজী হননি। তবে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সাথে ঘনিষ্ঠতার সূত্রে যেভাবে উচ্চাকাঙ্ষি বা উচ্চাভিলাষী হয়ে উঠেছিলেন, সেখানে তিনি এক বড় ধাক্কা খেয়ে নিজেকে সংযত থাকার সতর্কবার্তা পেয়েছেন বলে মনে করেন। তারা আরও মনে করেন, সতর্কবার্তাটি এসেছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকেই। মেসেজটি যদি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অনুধাবন করেন, তাহলে সেটা হবে তার পরিবার, তার নিজের, নিজের এলাকার এবং বগুড়া বিএনপির প্রতি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন