প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাহফুজ, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ফলে ডান পা হারান। জীবনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দীর্ঘ ১০ বছর তিনি ক্রাচের সাহায্যে চলাফেরা করেছেন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় তিনি জিপিএ ৫ অর্জন করে সবাইকে অবাক করেছেন।
অবশেষে, দীর্ঘ ১০ বছরের কষ্টের অবসান ঘটিয়ে বগুড়ার এই শিক্ষার্থী কৃত্রিম পায়ের মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মাহফুজের ডান পায়ে সফলভাবে কৃত্রিম পা সংযোজন করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্যোগ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় তার চিকিৎসার সার্বিক ব্যবস্থা করা হয়।
মাহফুজ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ঠাকুরপাড়া গ্রামের সাধারণ কৃষক আব্দুল ওহাবের ছেলে। সম্প্রতি শিবগঞ্জে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মাহফুজের অদম্য লড়াইয়ের গল্প শুনে মুগ্ধ হন। সেখানে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মাহফুজের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম পা লাগিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বগুড়া সফরে এসে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেই প্রথম মাহফুজের বিষয়টি আমার নজরে আসে। দীর্ঘ ১০ বছর একটি পা ছাড়া সে চলাফেরা করেছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হলে তিনি দ্রুত পা লাগিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেন। টিএমএসএস হাসপাতালের সহযোগিতায় কৃত্রিম পা সংযোজন সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে ছেলেটি তার দীর্ঘদিনের কষ্ট থেকে মুক্তি পেল এবং এখন স্বাভাবিকভাবে নিজের পায়ে হেঁটে চলাফেরা করতে পারবে।
মাহফুজ ও তার পরিবার কৃত্রিম পা পেয়ে আনন্দিত। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মাহফুজ বলেন, ‘আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। প্রধানমন্ত্রীর সুন্দর উপহার ও সার্বিক সহযোগিতা পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। প্রতিমন্ত্রী স্যার, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা আমার পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করে দিয়েছেন।’
মাহফুজের বাবা আব্দুল ওহাবও ছেলের পড়াশোনার পুরো দায়িত্ব নেওয়া এবং কৃত্রিম পা সংযোজনের ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জানান।
নতুন স্বপ্ন ও লক্ষ্য হিসেবে, শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক আইডিয়াল একাডেমি থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করা মাহফুজের লক্ষ্য এখন বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সরকারি আজিজুল হক কলেজে ভর্তি হওয়া। নতুন কৃত্রিম পায়ে ভর দিয়ে সব বাধা কাটিয়ে স্বপ্নের উচ্চশিক্ষার পথে বহুদূর এগিয়ে যেতে চায় এই অদম্য তরুণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন