১০:২৮ এম
আজ শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মোতাবেক ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিতে আজ জুমার নামাজের ইমামতি করবেন দুই বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব।
শায়খ ড. আবদুল্লাহ আল-জুহানি পবিত্র মসজিদুল হারামে জুমা নামাজ পড়াবেন। অন্যদিকে, মসজিদে নববিতে জুমা নামাজের ইমামতি করবেন শায়খ ড. আলী আল-হুজাইফি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক্স-এর মাধ্যমে পবিত্র দুই মসজিদ তত্ত্বাবধানকারী কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: আল্লাহর নামের মাধ্যমে দোয়া করলে কবুলের আশা
প্রতি সপ্তাহের মতো আজকের জুমার খুতবাও সরাসরি সম্প্রচারিত হবে বলে জানা গেছে।
আরবি ভাষার পাশাপাশি বাংলাসহ বিশ্বের ১০টির বেশি ভাষায় খুতবার অনুবাদ শোনা যাবে। এই ভাষাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইংরেজি, ফার্সি, মালাই, উর্দু, চাইনিজ, ফ্রেঞ্চ, হাউসা, তার্কিশ, রুশ এবং বাংলা।
পবিত্র দুই মসজিদের জুমার খুতবা শুনতে আরবি ও অন্যান্য ভাষায় খুতবা শোনার জন্য ওয়েবসাইটে (
আরও পড়ুন: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
) প্রবেশ করে একটি অপশন ক্লিক করতে হবে। এছাড়া ইউটিউব লিংকে (
https://www.youtube.com/@PRAGOVSA
) (
আরও পড়ুন: ইসলামে বিবাহের জন্য হারাম নারীদের তালিকা প্রকাশ
) প্রবেশ করে একটি ভাষায় ক্লিক করলে খুতবার অনুবাদ শোনা যাবে।
আরও পড়ুন: আল্লাহর কাছে প্রিয় দুটি বাক্য ও তার ফজিলত
শায়খ ড. আবদুল্লাহ আল-জুহানি
শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন আওয়াদ আল-জুহানি সৌদি আরবের মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব। তিনি ১৩৯৬ হিজরি/১৯৭৬ সালে মদিনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তিনি মদিনার মসজিদুল আশরাফে কোরআন হিফজ করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন।
তিনি মদিনার ইসলামিক ইউনিভার্সিটির কোরআন অনুষদ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটি, মক্কায় শিক্ষকতা করেন এবং কোরআনের তাফসির বিষয়ে মাস্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
ইমাম হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় মদিনার বিভিন্ন মসজিদে। তিনি মসজিদে কিবলাতাইন, মসজিদে কুবা এবং মসজিদে নববীতে ইমামতি করেছেন। ২০০৫ সালে তাঁকে মসজিদুল হারামে রমজানের তারাবির নামাজে ইমামতির দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তিনি মসজিদুল হারামের নিয়মিত ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আরও পড়ুন: পূজায় নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তবে এতে অংশ নিলে ঈমান থাকবে না: মুফতী আব্দুল মালেক
তাঁর হৃদয়স্পর্শী ও সুমধুর কোরআন তিলাওয়াত মুসলিম বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। কোরআন, তাফসির ও কিরাআত বিষয়ে তাঁর গভীর জ্ঞান এবং ইমামতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে সমকালীন প্রখ্যাত কোরআন কারিদের অন্যতম করে তুলেছে।
শায়খ ড. আলী আল-হুজাইফি
শায়খ ড. আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি মসজিদে নববীর অন্যতম প্রখ্যাত ইমাম ও খতিব এবং মুসলিম বিশ্বের সুপরিচিত কোরআন কারি। তিনি ১৩৬৬ হিজরি/১৯৪৭ সালে মক্কা অঞ্চলের আল-আরদিয়াত এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন ইমাম ও খতিব। শৈশবে তিনি কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং সম্পূর্ণ কোরআন হিফজ করেন।
তিনি প্রথমে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। এরপর বালজুরাশি অঞ্চলের ইলমি ইনস্টিটিউটে শিক্ষা গ্রহণ করে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির শরিয়াহ অনুষদ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে মাস্টার্স এবং ফিকহ ও ইসলামি রাজনীতি বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: হজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার উপায় ও গুরুত্ব
শিক্ষকতা জীবনে তিনি ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেছেন এবং তাওহিদ, ফিকহ, মাজহাব ও কিরাআতসহ বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করেছেন। তিনি মসজিদে কুবা ও মসজিদুল হারামেও ইমামতি করেছেন। ১৯৭৯ সালে তাঁকে মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৮১ সালে কিছু সময়ের জন্য মসজিদুল হারামে ইমামতি করার পর ১৯৮২ সালে পুনরায় মসজিদে নববীর ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পান।
শায়খ আল-হুজাইফি কোরআন তিলাওয়াতের জন্য বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। তাঁর গভীর, ধীর ও আবেগময় তিলাওয়াত বহু বছর ধরে বিশ্বের মুসলমানদের হৃদয় স্পর্শ করে আসছে। তাঁর সম্পূর্ণ কোরআন তিলাওয়াতের রেকর্ডও সংরক্ষিত ও প্রচারিত হয়েছে। তিনি মদিনার মুসহাফ পর্যালোচনা এবং কিং ফাহদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্সের কোরআন রেকর্ডিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন