প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শ্রেণিকক্ষের অপ্রতুলতা, শিক্ষকদের অভাব এবং শিক্ষাখাতে অর্থায়ন কমানোর পরিকল্পনার কারণে গত দুই সপ্তাহ ধরে ফ্রান্স সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলন এখন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে প্রায় দুই হাজার স্কুল ব্লকেড করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মুসলিমরা ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে। তার মতে, ব্যাপকহারে অভিবাসী আসার সুযোগ দেওয়ার ফলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে তা ব্যাপক নিয়ন্ত্রণের বাইরে ব্যাপক অভিবাসনের ফল। এটি কোনো স্কুলের বিষয় নয়, বরং ইসলামের বিষয়, যা এক সময়ের গ্রেট দেশ ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে।
এর আগে গত আগস্টে আসন্ন মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীদের ‘জিহাদি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত সপ্তাহে মিশিগানের প্রাইমারি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের প্রসঙ্গে তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
অধিকারকর্মীরা বলছেন, নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ডানপন্থি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ধরনের বক্তব্য ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যকে আরও উসকে দিচ্ছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পর ফরাসি সরকার এটি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরমু শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তার মন্ত্রীদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যেসব শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকেন তাদের বাদ দিতে হবে। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘসময় ক্লাস চলার বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হবে এবং দুপুরের খাবারের জন্য আরও বেশি সময় দিতে হবে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, পুরাতন স্কুলগুলোর পর্যবেক্ষণ করে এগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে শিক্ষাখাতে বাজেট কমানোর জন্য সরকারের পরিকল্পনা থেকে সরে আসাও তাদের অন্যতম বড় দাবি।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন