প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। বাংলাদেশে দেশের কোনো দল অংশগ্রহণ না করলেও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহের কিছু কমতি নেই। সমর্থকরা তাদের পছন্দের দলের জার্সি কেনার জন্য হিড়িক পড়েছে। কেন্দুয়া উপজেলার ফুটবলপ্রেমীরাও পিছিয়ে নেই।
স্থানীয় সূত্র মতে, এই বিশ্বকাপ উপলক্ষে কেন্দুয়ায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দলের জার্সি।
উপজেলার বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রীর দোকানগুলোতে এখন ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুই দলের সমর্থকরা এখন প্রতিপক্ষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নানা আয়োজন করছে। শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ শোডাউন ও মিছিলও করছেন তারা।
সরেজমিন উপজেলায় মধ্যবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের দুটি দল সমর্থকরা জার্সি কেনার জন্য ভিড় করছেন। চায়ের দোকানে আলোচনা থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা ও শহরের অলিগলিতে ফুটবল নিয়ে তুমুল আলোচনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
গোলাপ নামের একজন পোশাক ব্যবসায়ী জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য জার্সির বিক্রি বেড়েছে। তবে দাম একটু বেশি। দোকানে বিভিন্ন মানের জার্সি বিক্রি হচ্ছে।
জার্সির দাম ২৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা এবং ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া প্রিয় খেলোয়াড়ের নাম বা নিজের নাম লেখাতে অতিরিক্ত ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।
আরেক ব্যবসায়ী রইছ উদ্দিন বলেন, ঈদের আগেই বিক্রি ভালো ছিল। অনেকেই বাড়িতে যাওয়ার সময় সন্তানদের জন্য জার্সি ও পতাকা কিনে নিয়েছেন। এবার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি আশাবাদী যে খেলা শুরু হলে বিক্রি বাড়বে। এখন স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও জার্মানির পতাকাও বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্সি কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম জানান, ‘আমার ছেলে নেইমারের ভক্ত। তাই ব্রাজিলের জার্সি কিনেছি। জার্সিতে ওর নামও লিখে দেব।’
আরেক শিক্ষার্থী রাকিব বলেছেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই বন্ধুদের সঙ্গে নতুন জার্সি কিনি। এবার মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে, তাই বিশেষভাবে আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছি।’
জার্সি কিনতে আসা গৃহিণী নাসরিন আক্তার বলেন, ‘আমার দুই ছেলে-মেয়ে ব্রাজিলের ভক্ত। ওদের জন্য জার্সি কিনেছি। বিশ্বকাপ ঘিরে বাসায়ও আলাদা একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।’
অন্যদিকে দোকানে ব্যানার তৈরি করাতে আসা ব্রাজিল সমর্থক শফিক ও জাকির জানান, ‘আমাদের এলাকার প্রায় ১০০ জন মিলে টাকা তুলে বিশাল ব্যানার তৈরি করিয়েছি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রিয় দলকে শুভেচ্ছা জানাতে এই আয়োজন।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থক গোলাপ ও আয়েশ জানিয়েছেন, তারা বন্ধুরা মিলে জমানো টাকা দিয়ে আর্জেন্টিনা ও মেসির ছবিসহ বড় ব্যানার তৈরি করাচ্ছেন।
ডিজিটাল সাইন ও প্রিন্টিং ব্যবসায়ী পাপ্পু জানান, নির্বাচনের মৌসুম বা ঈদের সময়ের মতো এখন তাদের ব্যবসা চাঙ্গা। প্রতিদিন শত শত তরুণ কম্পিউটারের পাশে বসে নিজেদের পছন্দমতো ডিজাইন করে ব্যানার তৈরি করছেন। কাজের চাপ এতটাই বেশি যে, ব্যবসায়ীদের সারা দিনের পাশাপাশি রাত জেগেও প্রিন্টিংয়ের কাজ করতে হচ্ছে।
ব্রাজিল সমর্থক সাবেক ফুটবলার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফুটবল মানেই ব্রাজিল, ব্রাজিল মানে ফুটবল’—এই কথাটা সবারই মানতে হবে। ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য দেখে মূলত আমি ব্রাজিল দল সমর্থন করি। বর্তমানে কেন্দুয়ার পরিবেশটা পুরোপুরি উৎসবমুখর বলে মনে হচ্ছে। শহরজুড়ে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। সব খেলোয়াড়ই ভালো ফর্মে রয়েছে। আমরা আশাবাদী, ব্রাজিল এবার চ্যাম্পিয়ন হবে।
আর্জেন্টিনা সমর্থক আয়েশ উদ্দিন বলেন, বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে আমার প্রত্যাশা ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবগাথার পুনরাবৃত্তি ঘটবে ২০২৬ সালেও। আমার বিশ্বাস, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ ট্রফি উঠবে আর্জেন্টিনার হাতে।
এদিকে, ফুটবলভক্তদের এই উন্মাদনায় সাধারণ মানুষও কৌতূহলী। তারা বলছে, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ইতিবাচক বিনোদনের পরিবেশ গড়ে তোলাই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য। বর্ণাঢ্য শোডাউন, জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টসহ নানা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান দুই দলের সমর্থকরা।
কেন্দুয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের ইমন বলেন, ফুটবল একটি ক্রেজ সৃষ্টিকারী খেলা। বাংলাদেশের ফুটবলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। দুই বিশ্ব ফেভারিট দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার রেকর্ডভক্ত রয়েছে এই দেশে। কেন্দুয়ার চিত্র আরো বৃহৎ। এই উন্মদনা অত্যন্ত সুখকর। এর মাধ্যমে যুবসমাজের মাঝে সুস্থধারা তৈরি হয়। দুই দলের পাল্টাপাল্টি যে শোডাউনসহ অন্যান্য কর্মসূচি, এতে উপজেলাজুড়ে আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মাঠে বল গড়ানোর আগেই দেশে শুরু হয়ে গেছে মাঠের বাইরের ফুটবল উন্মাদনা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই উন্মাদনা যেন শুধু খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়েই শেষ হয় বিশ্ব ফুটবলের এই শ্রেষ্ঠ আসর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন