প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযান ও সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য আইনে গত এক সপ্তাহে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) চলমান আইন প্রয়োগ ও মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে এসব জরিমানা ও মামলা করা হয়।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ জানানো হয়, নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নে উল্লিখিত সময়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ৬টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক প্রদর্শনে ব্যর্থতার মতো অপরাধে ২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ২টি মামলা দায়ের করা হয়।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট ৩টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। পোড়া তেল ব্যবহার, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার বিচরণ, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের মতো অপরাধে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ৩টি মামলা দায়ের করা হয়।
এ সময়ে লক্ষ্মীপুর ও কিশোরগঞ্জে পৃথকভাবে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়। লক্ষ্মীপুরে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পরিচালিত অভিযানে খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় ২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জে ৩টি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং মোড়কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার দায়ে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যস্থাপনা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সারা দেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২৮৮টি খাদ্য প্রতিষ্ঠান মনিটরিং করা হয়। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বহুমুখী প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তার করণীয় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা এবং বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক বিভিন্ন অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জনগণের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, মোবাইল কোর্ট, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার এই কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন