প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন জন্মহার এবং দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাবের ফলে জাপানে বসবাসকারী দেশটির নাগরিকের সংখ্যা ৪২ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ১২ কোটির নিচে নেমে এসেছে।
বুধবার দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা কিয়োডো নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের জাপানি নাগরিকের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৩ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ লাখ ১৭ হাজার কম।
১৯৬৮ সালে জরিপ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০০৯ সালে সর্বোচ্চ জনসংখ্যায় পৌঁছায় জাপান। এরপর টানা ১৭ বছর ধরে ক্রমাগতভাবে দেশটির জাপানি নাগরিকের সংখ্যা কমছে।
একই সময়ে জাপানে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০১৩ সালে এসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এবারই বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা সর্বোচ্চ হয়েছে। বিদেশিদের অন্তর্ভুক্ত করলে জাপানের মোট জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪২ জন।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের জনগণের মধ্যম বয়স এখন ৪৯.৯ বছর, যা বিশ্বের মধ্যে মোনাকোর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
চলতি বছরের জুনে প্রকাশিত আরেকটি সরকারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশটির মোট জন্মহার আরো কমে রেকর্ড সর্বনিম্ন ১.১৪-এ নেমে এসেছে। অর্থাৎ একজন নারী তার জীবদ্দশায় গড়ে মাত্র ১.১৪টি সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন। এটি টানা দশম বছরের মতো জন্মহার কমার ঘটনা।
এছাড়া, দেশটিতে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার কমে মাত্র ৬ লাখ ৭০ হাজারের কিছু বেশি হয়েছে, যা ১৮৯৯ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরুর পর সর্বনিম্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যা হ্রাসের ফলে জাপানে শ্রমিক সংকট, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং করদাতার সংখ্যা কমে যাওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
এদিকে জনসংখ্যা সংকট মোকাবেলায় প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগও নিয়েছে জাপান। টোকিও মহানগর সরকার চালু করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ডেটিং অ্যাপ ‘টোকিও এনমুসুবি’-এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২৬৫টি দম্পতির বিয়ে হয়েছে বলে চলতি মাসে জানানো হয়েছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চালু হওয়া এই অ্যাপটি এমন এক জরিপের পর চালু করা হয়, যেখানে দেখা যায়, বিয়েতে আগ্রহী প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সক্রিয়ভাবে জীবনসঙ্গী খুঁজছেন না।
অ্যাপটিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীদের আইনগতভাবে অবিবাহিত হওয়ার প্রমাণ দিতে হয় এবং অনলাইন সাক্ষাৎকারসহ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত অ্যাপটিতে নিবন্ধিত সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার। প্রায় ৩৬ হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে তাদের নির্বাচন করা হয়েছে। বর্তমানে অ্যাপটির মাধ্যমে ৭৬০টি জুটি ‘গুরুতর সম্পর্কে’ রয়েছেন বলে সরকারি তথ্যে উঠে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন